অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ ওরফে মহি এবং তার স্ত্রী নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে আলাদা দুইটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন।
দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মহিউদ্দিন আহমেদ মহির বিরুদ্ধে দুই কোটি ৭০ লাখ ৬৩ হাজার ৯৮ টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পায় দুদক। আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেয়া হয়েছিলো। মহি তিন কোটি ৯৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য জমা দেন। তবে তিন কোটি ৬২ লাখ ৯২ হাজার টাকার সম্পদের বিবরণীতে গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া যায় ৯২ লাখ ২৯ হাজার টাকার। দুই কোটি ৭০ লাখ ৬৩ হাজার টাকার সম্পদের হিসাব দিতে না পারায় মামলা করে দুদক।
এই দুদক কর্মকর্তা আরও বলেন, এছাড়া তার স্ত্রী নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার সম্পদ গোপন এবং জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত এক কোটি ১৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
দুদক মহাপরিচালক বলেন, সমবায় ব্যাংকের ভল্ট থেকে স্বর্ণ গায়েবের ঘটনার সঙ্গে এই মামলার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এর আগে দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৯ সাল রাজনৈতিক বিবেচনায়, সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মহি। এরপর ভল্টের দায়িত্ব দেয়া হয় তার ভাগ্নে ও সিনিয়র অফিসার ক্যাশ নূর মোহাম্মদ এবং চাচাতো ভাই ব্যাংকের এজিএম হেদায়েত কবিরকে। এই দু’জনকে সাথে নিয়েই ভল্ট থেকে ১২ হাজার ভরি স্বর্ণ লুটের অভিযোগ ওঠে মহির বিরুদ্ধে। এই স্বর্ণ মূলত সমবায় ব্যাংকে বন্দক রেখেছিলো নারায়ণগঞ্জ কোঅপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটি নামের একটি সমবায় সমিতির সদস্যরা।
সুধাংশুর জামিন, কারাগারে মোস্তাক