দেশে ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত করাসহ সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব রক্ষায় আট দফার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃত্বে ৪০ সংগঠনের সংখ্যালঘু ঐক্য মোর্চা।
একই সঙ্গে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্তর বিরুদ্ধে করা হত্যা মামলা এবং ইসকনের চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীসহ যাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংখ্যালঘু ঐক্য মোর্চার পক্ষ থেকে গণসমাবেশ ও মিছিল শেষে এ দাবি করা হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন, জনসংখ্যার অনুপাতিক হারে সংসদে প্রতিনিধিত্ব, পার্বত্য শান্তি চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন উল্লেখযোগ্য।
সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব রক্ষায় আট দফা দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সংখ্যালঘু ঐক্য মোর্চা।
এসময় বক্তারা বলেন, তারা সংখ্যালঘু নন, বাংলাদেশি হিসেবে বাঁচতে চান। তাই অনতিবিলম্বে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের স্বার্থ ও অস্তিত্ব রক্ষায় আট দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের পাশাপাশি যে সব নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে ,সেগুলো অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
অতীতে তাদের প্রতি যে বৈষম্য হয়েছে সামনের দিনে সেটি আর দেখতে চান না। ধর্মভিত্তিক নয়, ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রের দাবি জানানো হয় সমাবেশে। পাশাপাশি, সম্প্রতি ইসকন নিষিদ্ধের যে দাবি করা হয়েছে, তার জন্য ক্ষমা চাইতে সময় বেঁধে দেন বক্তারা।
পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। মিছিলটি, দোয়েল চত্বর ঘুরে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গত পাঁচ আগস্ট দেশের পট পরিবর্তন পরিবর্তনের পর থেকেই দেশের হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে নানা দাবিতে রাজধানীসহ সারাদেশে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের মন্দির, বাড়ি ঘরে হামলা এবং অগ্নি সংযোগের তীব্র নিন্দা জানানো হয় সমাবেশ থেকে। সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশ বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দ বড়ুয়া, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হেমন্ত কোরাইয়া ও ইসকনের সাধারণ সম্পাদক চারু চন্দ্র ব্রহ্মচারী।
