ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির মোড়ে এখন শিক্ষার্থীদের কাছে নতুন এক পরিচিতি পেয়েছে তৃতীয় লিঙ্গের প্রথম চায়ের দোকানদার প্রিয়া খান। গোটা চত্বর জুড়েই তিনি পরিচিত 'প্রিয়া আপা' নামে। স্বল্পপুঁজির এই ছোট্ট ব্যাবসা থেকেই স্বাবলম্বী হবার পাশাপাশি তিনি চেষ্টা করছেন তার লালিত স্বপ্নপূরণের।
চায়ের দোকান শুরু করার আগে দীর্ঘ ২৪ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও শাহবাগ এলাকায় শিক্ষার্থী ও পথচারীদের কাছে হাত পেতেই জীবন যাপন করতেন প্রিয়া খান। এখন তাকে কারও কাছে হাত পাততে হয় না। পাঁচই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বদলে দিয়েছে তার জীবন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কিছুদিন আগে ক্যাম্পাসের ভাসমান দোকানগুলো উচ্ছেদের পর, নতুন করে যে ১১টি চায়ের দোকান টিএসসিতে রয়েছে তার মধ্যে একটি হলো প্রিয়ার চায়ের দোকান। পূর্বে নাচ গান করে অর্থ উপার্জন করলেও এখন নিজেকে নতুনভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চান প্রিয়া খান।

তিনি জানান, ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি সব সময়ই শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলেন এবং আহতদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য বহুবার হাসপাতালে ছুটে গেছেন। প্রিয়া খান বলেন, মানুষের যে পাঁচটি মৌলিক অধিকার রয়েছে, সেটাই তিনি চাইছেন এবং বুলিংয়ের শিকার থেকেও মুক্তি চান।
২০১৬ সালে টিএসসিতে দোকান বসানোর পরিকল্পনা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন প্রিয়া। অবশেষে তার সেই চেষ্টা সফল হলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ জানান, সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মূল ধারায় আনতে হবে। তানা হলে সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন ব্যহত হবে।
প্রিয়া আপা চায়ের দোকান পরিচালনা করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাকে দেখেছেন বোনের মতোই। তারা জানান, প্রিয়া আপা নিজ হাতে চা বানিয়ে দেন তাদের, ঠিক যেন বড় বোনের মতো। একটা সময় তাকে টাকা তুলতে দেখলেও, এখন প্রিয়া খান নিজ হাতেই চা বানিয়ে সবাইকে খাওয়াচ্ছেন।
প্রিয়া খান যে একাই স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন, তা নয়। তার দোকানে আরও পাঁচজন মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। প্রিয়া খানের মতো আরও যারা স্বাবলম্বী হতে চান, তাদেরও যেন সুযোগ দেওয়া হয়, এমনটাই এই তৃতীয় লিঙ্গ মানুষটির প্রত্যাশা।
জুলাই বিপ্লবের নেপথ্যের অনেক নায়ক সামনে এসেছেন। কিন্তু পেছনে রয়ে গেছেন প্রিয়া খানের মতো অবহেলিত মানুষেরা। তারা কোনো কৃতিত্বের দাবি করেন না। প্রিয়া খানের মতো যারা স্বাবলম্বী হতে চান, তাদেরও যেন সুযোগ দেওয়া হয়, এটাই তার প্রত্যাশা।
রাজধানীতে পণ্যের মতো দরদামে বিক্রি হয় মানুষ!