ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সদস্য মাছরাঙা টেলিভিশনের সাবেক বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনী হত্যা মামলার আলামত ও নথি পোড়ার দাবি নিয়ে বিভিন্নমুখী বক্তব্যে উদ্বিগ্ন সাংবাদিকদের সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এক বার্তায় এমন নানামুখী বক্তব্য ও বারবার তদন্তের সময় পেছানোয় উদ্বেগ জানান।
এদিন বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ মামলার তদন্ত চলমান ও অগ্রগতি আছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষ ৯ মাস সময়ের আরজি জানায়। শুনানি নিয়ে আদালত ছয় মাস সময় মঞ্জুর করে।
এর আগে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানিকালে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বহুল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্ত দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন।
ওই দিন আদালত বলে, ‘১২ বছরেও সাংবাদিক দম্পতি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া শুধু তার পরিবারের জন্য না, সমগ্র জাতির জন্য দুঃখজনক। বিচার বিভাগের জন্যও এটা কষ্টের কারণ।’
সেদিন আদালত বলে, ‘আশা করি এবার ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং তদন্তের জন্য দেওয়া এবারের ছয় মাস, মানে ছয় মাস।’
ডিআরইউ’র ওই বার্তায় বলা হয়, পাঁচ আগস্টের পরে নথি পুড়ে যাওয়া নিয়ে আদালতের ভেতরে ও বাইরে সাংবাদিকদের সামনে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর প্রাথমিক বক্তব্যের কারণে হত্যা মামলার নথি, আলামতের বর্তমান অবস্থা ও মামলাটির বিচার নিশ্চিত নিয়ে দ্বিধায় পড়েন সাংবাদিক সমাজ। এরপরই পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়, এ মামলার কোনো নথি পোড়েনি।
কিন্তু উচ্চ আদালত আজ বিভিন্ন এজেন্সির অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সকে মামলার তদন্ত শেষ করতে আবারও ছয় মাস সময় দিয়েছে।
গত ১৫ এপ্রিল মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ ১১৭ বার পেছানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ম্যাজিস্ট্রেট এম এ আজহারুল ইসলাম। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের ধার্য দিন থাকলেও পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেয়ায় এই সময় দেয়া হয়।
গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানিকালে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বহুল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্ত দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন।
আদালত বলেন, ১২ বছরেও সাংবাদিক দম্পতি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া শুধু তার পরিবারের জন্য না, সমগ্র জাতির জন্য দুঃখজনক। বিচার বিভাগের জন্যও এটা কষ্টের কারণ।
সেদিন আদালত বলে, আশা করি এবার ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং তদন্তের জন্য দেওয়া এবারের ছয় মাস, মানে ছয় মাস।
ডিআরইউ মনে করে. নিঃসন্দেহে সময় বৃদ্ধি নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সম্পূর্ণ এখতিয়ার আদালতের এবং আদালত মামলার সর্বোৎকৃষ্ট বিচার নিশ্চিতের প্রয়োজনেই সময় দেয়।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজা বাজারে নিজ বাসায় তাদের শিশুপুত্রের সামনে নির্মমভাবে খুন হন এই সাংবাদিক দম্পতি।
সেই সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও তদন্তে অগ্রগতি নেই। এখনও শনাক্ত কিংবা গ্রেপ্তার হয়নি হত্যাকারী।
এদিকে মেহেরুন রুনীর মা নুরুন্নাহার মির্জা মারা গেলেও এখনও বিচারের আশা ছাড়েন নাই সাগরের বয়োবৃদ্ধ মা সালেহা মুনির ও সাগর-রুনীর একমাত্র পুত্র মাহীর সারওয়ার মেঘ।
এ অবস্থায় ১৩ বছরের এই দীর্ঘ অপেক্ষা আরও বাড়তে থাকা উদ্বিগ্ন করছে সাংবাদিক ও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের।
ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ মনে করে, দেশের দক্ষ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বড় বড় হত্যার রহস্য উন্মোচন করে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করেছে। তবে সাগর-রুনী হত্যার কোনো কুলকিনারা তারা করতে পারবে না এটা অবিশ্বাস্য। তাই আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ে সাগর-রুনী হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত খুনিদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র পক্ষ থেকে আবারো জোর দাবি জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সাগর-রুনি হত্যা মামলা তদন্তে আরো ছয় মাস সময় দিলো হাইকোর্ট