ফোন দিয়ে টিকটক ভিডিওর মান ভালো হয় না। এজন্য দরকার ডিএসএলআর ক্যামেরা। দু’জন ফটোগ্রাফারকে বিয়ের অনুষ্ঠানের ছবি তোলা কথা বলে ডেকে আনা হয়। এদের মধ্যে এক জন ইমন, অপরজন নুরুল। ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার সময় বাধা দিলে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় নুরুলকে।
একই দিন ধানমন্ডি লেকের পারে বসা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে জিগাতলায় খুন হন শিক্ষার্থী আলভী। এই দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
১৬ মে রাত। বিয়ের ইভেন্ট কাভার করার কথা বলে ফটোগ্রাফার ইমন ও নুরুলকে ডাকা হয়। জাফরাবাদ এলাকায় পৌঁছলে, প্রায় ১০ জনের একটি দল হামলা করে তাদের ওপর। ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার সময় বাধা দিলে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয় নুরুলকে। ইমন দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে নুরুলকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে, চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় পুলিশ রাজধানী, আশুলিয়া ও ময়মনসিংহ থেকে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র এবং দুটি ক্যামেরা। পুলিশ বলছে, টিকটক ভিডিও তৈরি করার জন্য ডিএসএলআর ক্যামেরার চাহিদা থেকেই এই পরিকল্পনাটি ফাঁদে ফেলা হয়েছিল।
ডিএমপির রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম বলেন, নুরুল হক হত্যার ঘটনায় নাঈম নামের একজন নেতৃত্ব দেয়। ওরা একটা টিকটক গ্রুপ পরিচালনা করতো। পরিকল্পনা অনুযায়ী জাফরাবাদ এলাকায় ডেকে কুপিয়ে হত্যা করে ফটোগ্রাফারের দুটি ক্যামেরা নিয়ে যায় আসামিরা।
ক্যামেরাগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আসামিদের ছুরিসহ দশজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, একই দিন জিগাতলা এলাকায় শিক্ষার্থী আলভীসহ চারজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে, চিকিৎসক আলভীকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ বলছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে কোন্দল।
মাসুদ আলম জানান, জিগাতলায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আলভীকে কথাকাটাকাটি ও অপমানকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি সবাইকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাদেরকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা ১৪ জনের বয়স ১৮ থেকে ২১ বছরের মধ্যে বলেও উল্লেখ করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের এই কর্মকর্তা।
ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ইশরাক সমর্থকদের অবস্থান