তিনদিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে দুপুরে ওপারে পাড়ি জমালো মাহতাব। উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় শরীরের ৮৫ শতাংশ পোড়া নিয়ে বার্ণ ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) সপ্তম শ্রেণির মাহতাব রহমান ভুইয়া মারা যায়। বাবা মজিানুর রহমান ভুইয়া বলছিলেন, সিস্টেমের ভুলের বলি হলো তার সন্তান। বড়বোন নাবিলা একই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। মাহতাবের মরদেহ নিয়ে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বনকুট গ্রামে উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে পরিবার। সেখানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ১০ নম্বর রোডের বাসা থেকে প্রতিদিনের মত বাবার সঙ্গে স্কুলে এসেছিলো মাহতাব। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে মাহাতাব ছোট। বড়বোন নাবিলা একই স্কুলের দশম শ্রেণিতে পড়ে।

মাহতাবের ক্লাস ছিলো স্কুলের দোতলায়। এর নিচেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায় চারপাশে। সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে নিচে নামার সময় মাহতাবের শরীরে আগুন ধরে যায়। মাহতাবের সেই ছবি ভাইরাল হয় সামাজকি যোগাযোগমাধ্যমে।

পরিবার আসার আগেই গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বার্ন ইউনিটে নিয়ে যায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আইসিউইতে নেয়া হয়। আইসিইউর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র ১১ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন ছিলো মাহতাব। বুধবার রাতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন বাবাসহ স্বজনরা।
দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে মাহতাবের মৃত্যুর খবরে বাবা অনেকটা বাকরুদ্ধ। বলছিলেন কালরাতে ডাক্তার জানায় রক্তের আর প্রয়োজন নেই তখনই বুঝে গিয়েছিলাম ছেলে চলে যাবে। ক্ষোভ আর কান্নায় বলছিলেন, সিস্টেমের ভুলে বলি হলো আমার সন্তান, এমন একটা দেশে বসবাস করি সবই ভুল।

বিছানায় শুয়েও বন্ধুর কথা বারবার জানতে চাইছিলো মাহতাব। ছেলে স্কাউটিং করতে চেয়েছিলো, দারুণ সাহসী, তার আশা ছিলো সে বেঁচে যাবে। শেষবার জুস খেতে চেয়েছিলো রাতে দেয়াও হয়ে ছিলো খেতে।
বাবার আক্ষেপ, ছেলে যদি সেদিন অসুস্থ থাকতো তবে স্কুলে যেত না, আজ বেঁচে থাকতো। বাসায় ফিরে মাহতাবের মা আর বোনকে কী জবাব দেবেন তাই জানতে চাইছিলেন স্বজনদের কাছে?
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: ডিএনএ পরীক্ষায় পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত
মাইলস্টোনে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত: আরও এক শিশুর মৃত্যু, নিহত বেড়ে ৩৪