পরিবারের সঙ্গে ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন নগরবাসী। যানজট আর বাড়তি ভাড়ার ভোগান্তি এড়াতে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার আগেই ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে। শনিবার (২৩ মে) ঈদযাত্রার প্রথম দিনে সকাল থেকেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে বাস টার্মিনালগুলোতে; সেখানে এখনও যাত্রীদের তেমন ভিড় জমেনি।
এদিকে কোনো ধরনের শিডিউল বিপর্যয় ছাড়াই প্রথম দিনে যথাসময়ে ট্রেন চলাচল করায় রেলযাত্রায় স্বস্তির আভাস মিলেছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী সোমবার ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার পর বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীচাপ এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে টার্মিনালে যাত্রীদের ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি অনিয়ম রোধে মাঠে কাজ করছে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম।
আগাম টিকেট ও বাড়তি ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের কিছু বিচ্ছিন্ন অভিযোগ থাকলেও পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা তা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, কোনো বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না, বরং নির্ধারিত দামেই টিকেট বিক্রি হচ্ছে।
রেলপথের ঈদযাত্রার শুরুতে ভোর ছয়টায় রাজশাহীগামী ‘রাজশাহী এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যায়। সকাল থেকে বেলা পর্যন্ত কমলাপুর থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যথাসময়ে ১৬টি আন্তনগর ট্রেন ছেড়ে গেছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ সারা দিনে ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ৬৬টি ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনে সকালে কমলাপুর স্টেশনে আসেন রেলসচিব ফাহিমুল ইসলাম। এ সময় তিনি রেলওয়ের নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সচিব জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কমলাপুর স্টেশনে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং টিকিটবিহীন যাত্রী প্রবেশ ঠেকাতে স্টেশনের বাইরে বাঁশের বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে।
যাত্রীদের আশ্বস্ত করে রেলসচিব ফাহিমুল ইসলাম বলেন, এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে আমি আশাবাদী। কোনো ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা নেই। টিকেট কাটার পরও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক যাত্রী ট্রেনে ঢুকতে পারছেন না—এমন অপ্রীতিকর ঘটনা এবার আর ঘটবে না।
