বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরিকে হত্যা ও মরদেহ গুমের চাঞ্চল্যকর মামলায় গ্রেপ্তার তার বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশাকে (১৯) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে নৌ-পুলিশ।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন এই রিমান্ড আবেদন করেন। আসামিকে ইতিমধ্যে আদালতের হাজতখানায় আনা হয়েছে। বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালতে এ বিষয়ে রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহান সুমন।
পুলিশ ও মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে দিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেছেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও উত্তরার বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এই হত্যাকাণ্ডে জেরিকা তাসনিম দিশার সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৭ অক্টোবর রাতে উত্তরার ‘নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’ এবং একই দিন সন্ধ্যায় ডিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাক্সে নিহত তাহসিফের সঙ্গে দিশাও ছিলেন। রাত ১০টা ১৭ মিনিট থেকে ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত তারা একই বাইকে করে ওই বারে আসেন এবং পরে একসঙ্গে সেখান থেকে চলে যান। এমনকি একটি গ্যারেজের সিসিটিভি ফুটেজেও তাদের একসঙ্গে যাতায়াতের দৃশ্য ধরা পড়েছে।
মামলার বাদী ও নিহত তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার পর ‘দীপ’ নামের এক জুনিয়র বন্ধুর ডাকে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। রাত গভীর হলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় তাঁর মা বারবার ফোনে যোগাযোগ করেন। তখন তাহসিফ দ্রুত ফিরবেন বলে জানান। পরবর্তীতে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে মায়ের ফোনে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠান, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’। কিন্তু এরপর আর তিনি ফেরেননি।
পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে উত্তরখান থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, রাজারবাড়ি ঘাট এলাকার তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ২৯ অক্টোবর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
এই ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে রাজধানীর উত্তরখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে এ মামলার অপর আসামি শাহরিয়ার রেজা দীপকে মোহাম্মদপুর থেকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আদালতের মাধ্যমে বর্তমানে চার দিনের রিমান্ডে তিনি নৌ-পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। মামলায় সম্পৃক্ত অন্যান্য দিক উদ্ঘাটনে এখন বান্ধবী দিশাকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ।
