মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো গোপন চিঠি এবং দ্বিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা প্রসঙ্গে অবশেষে মুখ খুলেছে ইরান। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, মার্কিন প্রশাসনের ‘সুর সম্পূর্ণ বদলে গেছে’, যা ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে দৃশ্যমান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তবে চিঠির বিষয়বস্তু বা এর সুনির্দিষ্ট বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে ওই চিঠির কোনো জবাব এখনও দেয়া হয়নি।
গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়, দু’দেশের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নতুন করে শুরুর উদ্যোগ হিসেবে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা মোহসেন রেজাইকে সরাসরি একটি চিঠি পাঠিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, মার্কিন সামরিক হামলা এড়াতে যে কোনো দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অবশ্যই ‘পারমাণবিক কর্মসূচি’ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও পরবর্তীতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায় যে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই চিঠির বিষয়বস্তু সংক্রান্ত অনুমানগুলো সঠিক নয়।
শনিবার ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে মোহসেন রেজাই বলেন, আমি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধি ভ্যান্সের চিঠিটি পড়েছি, তবে এখনও এর কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দিইনি। তাদের কথার সুর পুরোপুরি পাল্টে গেছে, যা একটি ইতিবাচক লক্ষণ। এটি প্রমাণ করে যে, ইরানি জাতি তাদের জাতীয় বিজয় ও শক্তিকে দৃঢ়ভাবে সুসংহত করেছে। যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রপক্ষ চিঠির বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আনেনি, তাই আমিও এ নিয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলছি না।
এদিকে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী মার্কিন নির্বাচনের ঠিক পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলার আশঙ্কা নিয়ে নানা গুঞ্জন ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এমন জটিল পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের তরফ থেকে যে কোনো ধরনের ভুল পদক্ষেপ বা আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব হবে ‘ভৌগোলিক সীমারেখাহীন’। যার স্পষ্ট অর্থ হলো, যেখানেই তেহরান হুমকি বা আক্রমণের মুখে পড়বে, সেখানেই তাৎক্ষণিক ও কঠোর পাল্টা জবাব দেবে ইরানি বাহিনী।
এছাড়া দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলি আব্দুল্লাহি নিশ্চিত করেছেন, সম্ভাব্য পরিস্থিতির মোকাবেলায় তাদের সামরিক বাহিনী নিয়মিতভাবে তাদের ‘টার্গেট ডাটাবেজ’ আপডেট করে চলেছে।
সাক্ষাৎকারে তেহরানের বিতর্কিত পারমাণবিক নীতি নিয়েও কথা বলেন মোহসেন রেজাই। ২০০৩ সালে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জারি করা একটি ঐতিহাসিক ফতোয়ার ওপর ভিত্তি করে এতদিন পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার শান্তিপূর্ণ নীতি কঠোরভাবে মেনে চলে আসছে ইরান। এ বিষয়ে রেজাই স্পষ্ট করে বলেন, আমাদের পারমাণবিক নীতিতে পরিবর্তনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে যদি নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়, তবে আমরা পূর্বের নীতি বা কৌশল বজায় রাখব কি না, তা নিয়ে বর্তমানে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা-তাসনিম নিউজ
