রাজধানীর কদমতলীতে গৃহবধূ ইয়ানুর বেগমকে (২৫) গলা কেটে নৃশংসবাবে হত্যার পর খাটের নিচে লাশ লুকিয়ে রেখে পালিয়েছেন তার স্বামী জুয়েল। শুক্রবার দুপুরে খবর পেয়ে কদমতলী থানা পুলিশ বাসার খাটের নিচ থেকে রক্তভেজা লাশটি উদ্ধার করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কদমতলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুন নাহার জানান, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কদমতলী থানাধীন ৬১ নম্বর ওয়ার্ডের ৬৭০ নম্বর গলির একটি পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার সাবলেট বাসা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বিকেলে মৃতদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত ইয়ানুর পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোয়াবাড়িয়া গ্রামের মো. হানিফ হাওলাদারের মেয়ে। তিন মাস আগে পেশায় গাড়ির সুপারভাইজার জুয়েলের সঙ্গে পালিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিনি। ইয়ানুরের আগের সংসারে পাঁচ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে, যে তার নানা-নানির কাছে থাকে।
নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত তিন মাস আগে জুয়েল ও ইয়ানুর ওই বাসাটি সাবলেট ভাড়া নেন। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হতো। বৃহস্পতিবার রাতেও তাদের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া হয়, যা মোবাইলে নিজের মাকে জানিয়েছিলেন ইয়ানুর।
পরদিন সকালে ছোট ভাই মো. ইমাম হোসেন বোনকে ফোনে না পেয়ে ওই বাসায় যান। সেখানে গিয়ে রুমের বাইরে তালা ঝুলতে দেখেন তিনি। বাধ্য হয়ে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতেই মেঝেতে রক্তের দাগ দেখতে পান। পরবর্তীতে রুমে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে খাটের নিচে ইয়ানুরের গলাকাটা রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখে তিনি পুলিশে খবর দেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে বৃহস্পতিবার রাতের যে কোনো সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইয়ানুরকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী জুয়েল পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
