বর্তমান সরকার ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে বৈষম্যহীন, মানবিক ও উদারনৈতিক এক নতুন বাংলাদেশ ও সমাজ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘নতুন সদস্য বরণ অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা তুলে ধরেন।

ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রেস সচিব সাংবাদিকদের অধিকার আদায় ও পেশাগত সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিভক্ত গণমাধ্যম নিজেরই সবচেয়ে বড় ক্ষতি ডেকে আনে, যা অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির পথকে বাধাগ্রস্ত করে।
রাজনীতি ও পেশাদারি নিয়ে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, দেশ-বিদেশের খবর রাখা একজন সচেতন সাংবাদিকের নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক আদর্শ বা প্রতি সহানুভূতি থাকা স্বাভাবিক কিংবা অন্যায্য কিছু নয়। তবে, সেই ব্যক্তিগত পক্ষপাত যেন সত্য প্রকাশ বা সংবাদ পরিবেশনে কোনোভাবেই দেয়াল তুলে না দাঁড়ায়। সত্য গোপন করার মনোভাব তৈরি হলেই বুঝতে হবে ব্যক্তিগত বিশ্বাস পেশাকে প্রভাবিত করছে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট টেনে সালেহ শিবলী উল্লেখ করেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকারকে মধ্যপ্রাচ্যের ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধ পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। একই সঙ্গে বিগত আমলের গুম-খুন ও প্রতিহিংসার সংস্কৃতির বিপরীতে বর্তমান সরকারকে অনবরত গুজব ও অপপ্রচারের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও গত নয় মাসে সবচেয়ে বেশি গুজব ও গুঞ্জনের শিকার হয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপতথ্য রুখতে সাইবার নিরাপত্তা আইনের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার হওয়া সাধারণ মানুষের সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে এই আইনি কাঠামো যেন মূলধারার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকে কোনোভাবেই খর্ব না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে আলোচনার মাধ্যমে আইনে সংশোধন বা সংযোজন করা সম্ভব। পাশাপাশি গুজব রুখতে দেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমকে প্রতিদিন নিয়মিত ‘ফ্যাক্ট-চেক’ বা তথ্য যাচাইভিত্তিক অনুষ্ঠান প্রচারের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিআরইউর সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম। তিনি জানান, এবার প্রায় চার শর বেশি আবেদনকারীর মধ্য থেকে কঠোর যাচাই-বাছাই ও নিয়ম মেনে মাত্র ৪০ জন পেশাদার রিপোর্টারকে ডিআরইউর নতুন সদস্যপদ প্রদান করা হয়েছে।
