রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা অর্থপাচার (মানিলন্ডারিং) প্রতিরোধ আইনের এক মামলায় দেশের শীর্ষস্থানীয় অলংকার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান 'ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড'-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার, অভিযুক্ত দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার গভীরে পৌঁছানোর স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তা—পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল হাসান তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানান।
আবেদনের পক্ষে-বিপক্ষে দীর্ঘ শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম।
এর আগে, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
মামলার এজাহার সূত্রের তথ্য মতে, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের পক্ষ থেকে ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে বৈধ উপায়ে বিদেশ থেকে মাত্র ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার স্বর্ণের বার, অলংকার ও লুজ ডায়মন্ড আমদানি করা হয়।
অথচ অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ঠিক একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় বাজার থেকে ক্রয়, বিনিময় ও পরিবর্তন পদ্ধতির দোহাই দিয়ে প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ ও বাজারজাত করেছে।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও হীরার উৎসের কোনো বৈধ কাগজপত্র কিংবা সরবরাহকারীদের বিষয়ে গ্রহণযোগ্য তথ্য তদন্ত কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। পর্যাপ্ত ও আইনসম্মত নথিপত্র না থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে এসব বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও অলংকার অবৈধভাবে দেশে আনা হয়েছিল।
এই ব্যাপক আর্থিক জালিয়াতি ও চোরাচালানের ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ও অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শেখ বাদী হয়ে গুলশান থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি দায়ের করেন। এই রিমান্ড আদেশের ফলে মামলাটির তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য ও অবৈধ অর্থপাচারের মূল শিকড় উন্মোচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
