জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় দুই পরাজিত মেম্বার প্রার্থীর সমর্থদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা, ভাংচুর ও সংঘর্ষের ঘটনায় আসাদুজ্জামান আসাদ নামে (৫৫) একজন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের প্রসাদপুর ও হাসড়ামাজালিয়া গ্রামের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সরিষাবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রিপন মিয়া, মজনু মিয়া, জালাল উদ্দিন, নজরুল ইসলাম ও আমীর হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই প্রসাদপুর গ্রামের ঘুড়ি প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী রহমতুল্লাহর সঙ্গে হাসড়া মাজালিয়া গ্রামের ফুটবল প্রতীকের আরেক পরাজিত প্রার্থী মন্টু মিয়ার বিরোধ চলে আসছিল।
এর আগে রহমতুল্লাহর সমর্থক হবি তার ভাই নুরুল ইসলামের জমির মাটি বিক্রি করেন প্রতিবেশী সাদ্দামের কাছে। এ জমি থেকে মঙ্গলবার ট্রাক্টর দিয়ে মাটি কেটে একই এলাকার আবুল হোসেনের আবাদি জমির মধ্যে দিয়ে নিয়ে আসছিল। এতে মন্টু মিয়ার সমর্থক আবুল হোসেন বাধা দেয়।
আরও পড়ুন: বাড়ি পাচ্ছেন নীলফামারীর পাঁচ অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা
এ নিয়ে সকাল থেকেই উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে আসছিল। এ পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলাকালে রহমতুল্লাহর সমর্থকের দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে মন্টু মিয়ার সমর্থকরা।
পরে উভয়পক্ষের সমর্থকরা লাঠিসোটা, হকিষ্টিক ও রামদা নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে রহমতুল্লাহর সমর্থক আসাদুজ্জান আসাদ গুরুতর আহত হন।
পরে তাকে সরিষাবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসাদকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান তিনি।
মৃত্যুর খবর তাৎক্ষণিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সরিষাবাড়ী থানার পুলিশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়। এসময় চিকিৎসা নিতে আসা আহত পাঁচজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর রকিবুল হক ।
একাত্তর/টিএ
