জয়পুরহাটে সড়ক নির্মাণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে কোন ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না ঠিকাদার। কৃষকদের অভিযোগ, তাদের না জানিয়েই কেটে নেয়া হয়েছে দূর্গাদহ বাজার থেকে হরিপুর পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার সড়কের মাটি।
এখন তারা ক্ষতিপূরণ চাইলে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এনিয়ে এলজিইডির কর্মকর্তা বলছেন, মাটি সরবরাহের জন্যে আলাদা অর্থ বরাদ্দ ছিলো।
ফসলি জমির কৃষকদের না জানিয়ে অনেকটা গায়ের জোরই রাস্তার মাটি কেটেছেন ঠিকাদার। পাঁচ থেকে আট ফুট সরু গভীর ও চওড়া করে বিভিন্ন জমির মাটি কেটে সড়ক সংস্কার হয়েছে।
রাস্তার দু’পাশের ফসলি জমি থেকে মাটি নেয়ার অনুমতি না থাকলেও ভেকু মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে খনন করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
এখন ক্ষতিপূরণ তো দূরের কথা প্রতিবাদ করলে কৃষকদের হত্যা ও মিথ্যা মামলার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে অবশ্যই রাস্তা চাই। কিন্তু আমাদের আলু, সরিষা, ধানসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট করে মাটি কেটে রাস্তার দুইপাশে ভরাট করা হচ্ছে। বাধা দিতে গেলে ঠিকাদারের লোকজন হুমকিও দিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: দুই ভাগ্নিকে গলাকেটে হত্যা: মামা আটক
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মাটি সরবরাহের জন্য এলজিইডির চুক্তি থাকার পরেও তা মানা হয়নি। তাই কৃষকদের ক্ষতিপূরণসহ ঠিকাদারের শাস্তি দাবি করেছেন এলাকার জনপ্রতিনিধিরা।
জয়পুরহাট সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক ঠাকুর জানান, ঠিকাদারকে অন্য জায়গা থেকে মাটি কেনার জন্য এলজিইডি অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। তারপরও অসাধু ঠিকাদার অসহায় কৃষকদের অর্থ না দিয়েই তাদের ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি খনন করে যে ক্ষতি সাধন করেছে, তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
কৃষকরা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী মোবারক হোসেন। তিনি জানান, অন্য স্থান থেকে মাটি এনে কাজ করতে হবে, এমন চুক্তি আছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এলজিইডির।
সদর উপজেলার ভাদশা ইউনিয়নের দূর্গাদহ বাজার থেকে হরিপুর পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার রাস্তা দুই কোটি ৪১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে রাস্তা বর্ধিত, সংস্কার ও কার্পেটিং এর কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইথান এন্টারপ্রাইজ।
একাত্তর/এসজে
