তিনটি জেলা নিয়ে বিস্তৃত ছায়ার হাওরের মাউতি ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে রোববার (২৪ এপ্রিল) সকাল থেকে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। এখনো এই হাওরের অর্ধেক জমির ধান কাটা বাকি থাকায় চিন্তায় পড়ে গেছেন কৃষকরা।
তবে প্রশাসনের দাবি, ইতোমধ্যে ৯৫ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। এই হাওরে সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার চার হাজার ৬৩৭ হেক্টরসহ কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুড়ি উপজেলার বোরো জমিও রয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পিআইসি নির্মিত বাঁধটিতে ফাটল দেখা দেয়। পরে বাধ ভেঙ্গে হাওরে পানি প্রবেশ করতে থাকে। বাঁধ ভাঙ্গার এই দৃশ্য দেখে হাজার হাজার কৃষক তাদের অবশিষ্ট জমির ধান কাটতে হাওরে নেমে গেছেন।
কৃষকরা জানান, কৃপেন্দ্র দাসকে সভাপতি করে ২২ লাখ টাকার এই প্রকল্প দেওয়া হয়। পিআইসি সভাপতি কৃপেন্দ্র সিলেটে অবস্থান করেন। তিনি কৃষকও নন। তাই বাঁধের কাজে নানা দুর্বলতা ছিল বলে অভিযোগ করেন তারা।
এই দুর্বলতার কারণেই বাঁধ ভেঙ্গে হাওরের কাটার বাকি অবশিষ্ট জমির ধান তলিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তারা।
শাল্লা উপজেলার বাহারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু জানান, এই হাওরে সবচেয়ে বেশি জমি শাল্লা উপজেলার। কিছু জমি কিশোরগঞ্জের ইটনা-মিঠামইন ও কিছু জমি নেত্রকোণার খালিয়াজুরি উপজেলার কৃষকদের।
আরও পড়ুন: দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দুয়েকদিনে যোগ হবে আরও দু'টি ফেরি
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধেক ধান কাটা হয়েছে। বাকি অর্ধেক ধান কাটা বাকি আছে। এই অবস্থায় হাওর তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তালেব বলেন, নদীর পানি অস্বাভাবিক বেড়েছে। এই প্রকল্পটি অন্য প্রকল্পের চেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ছিলনা। তারপরও পানির চাপে বাঁধটি ভেঙ্গে গেছে। এখন হাওরে পানি প্রবেশ করছে। তবে কৃষকরা ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ ভাগ জমির ধান কেটে নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
একাত্তর/এসজে
