নেত্রকোনা সদর ও মদনে উপজেলায় বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে পুলিশ আহতের ঘটনায় থানায় পুলিশ বাদি হয়ে আলাদা দুইটি মামলা দায়ের করেছে। এ দুই মামলায় ৭৯২ বিএনপি নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে সদর থানায় করা মামলায় আসামি করা হয়েছে ৫৩৩ জনকে।
অন্যদিকে, বুধবার (৩১ আগস্ট) দিবাগত রাতে মদন থানায় দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে ২৫৯ জনকে। দুই মামলায় বিএনপির ১৫ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, নেত্রকোনা মডেল থানায় দায়ের মামলার বাদি হয়েছেন থানার এসআই খন্দকার আল মামুন আর মদন থানায় দায়ের মামলার বাদি হয়েছেন এসআই দেবাশীষ।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, পুলিশের ওপর আক্রমণ ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে গত পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করা বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন রনি খানকে প্রধান আসামি ও ৩৩ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম জানান, পুলিশ আহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল আলমকে প্রধান আসামি ও ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ২৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) শহরের ছোটবাজার এলাকায় জেলা বিএনপির কর্মসূচি পালন করতে নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। এসময় শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ চেষ্টা চালায়।
আরও পড়ুন: ধানক্ষেত থেকে কিশোরের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার
এসময় বিএনপি কর্মীদের রাস্তায় অবস্থান ঠেকাতে পুলিশ বাধা দেয়। এতে পুলিশ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ২২ জন আহত হন।
অন্যদিকে, বুধবার (৩১ আগস্ট) মদনের শাহপুর ইদগাহ মাঠে বিএনপি কর্মীরা জড়ো হয়ে মিছিলের প্রস্তুতি নেয়ার সময় আওয়ামী লীগের কর্মীদের সাথে সংঘর্ষে জড়ান। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার সময় তিন পুলিশসহ উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হন।
