হালদা নদীতে লবণাক্ততা বাড়ায় ব্যাহত হচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি উৎপাদন। শুধু তাই নয়, সেসঙ্গে জলজ প্রাণীর বিচরণ ক্ষেত্র নষ্ট হবার শঙ্কাও করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতি লিটার পানিতে ১৫০-৬০০ মিলিগ্রাম লবণাক্ততাসহনীয় হলেও, এবার হালদায় লবণাক্ততা পৌঁছেছে প্রতি লিটারে চার হাজার মিলিগ্রাম।
চট্টগ্রামের হালদা নদীর পাড়ে মোহরা ও মদুনাঘাট এলাকার দুটি পানি শোধনাগার কেন্দ্র থেকে পানি উৎপাদন হয় ১৮ কোটি লিটার।
অনাবৃষ্টি আর ঘূর্ণিঝড় 'ইয়াসে'র প্রভাবে হালদা নদীর পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে গেছে, এতে দুইটি প্লান্ট থেকে পানি উৎপাদন চার কোটি লিটার কম হচ্ছে।
ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম জানান, লবণাক্ততার কারণে হালদা থেকে পানি উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায় চট্টগ্রাম শহরে পানি সরবারাহ ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে, পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় যথাসময়ে বজ্রসহ টানা বৃষ্টি না হওয়া এবং ইয়াসের প্রভাবে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করায় পুরোদমে ডিম ছাড়েনি হালদার কার্প জাতীয় মা মাছ।
ফলে পর্যাপ্ত ডিম, পোনা ও রেণু সংগ্রহ করতে পারছেন না মৎস্য চাষীরা। তবে মৎস্য কর্মকর্তারা মনে করেন, সামনের জোতে পরিবেশ অনুকূলে থাকলে পুরোদমে ডিম ছেড়ে দিতে পারে।
দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য উৎপাদনের কেন্দ্র হালদায় লোনা পানি প্রবেশ করায় এ বছর কমে গেছে কার্প জাতীয় মাছের ডিম ও রেণু উৎপাদনও।
উজান থেকে পানি প্রবাহ না বাড়লে হালদা থেকে পানি উৎপাদন এবং জলজ প্রাণীর বিচরণ ক্ষেত্র নষ্ট হতে পারে বলেও শঙ্কা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
একাত্তর/এসএ
