রেলপথমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন এমপি বলেছেন, সারা দেশের রেল ব্যবস্থাকে ব্রডগেজে রূপান্তর করা হবে। ইতোমধ্যে সেই কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, বহির্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ব্রডগেজে রূপান্তরে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে করে রেলসেবা আরো গতিশীল হবে।
রোববার (১ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনাকালে এসব কথা বলেন রেলপথ মন্ত্রী।
রেলমন্ত্রী বলেন, এর আগে ক্ষমতায় থাকা বিএনপি-জামায়াত সরকার দেশের রেলকে শেষ করে দিয়ে গেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্ব আওয়ামী লীগ দেশের সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েই ২০১১ সালে রেলপথ মন্ত্রণালয় নামে একটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করে রেলকে গতিশীল করার কাজ হাতে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় আধুনিক হচ্ছে রেল। আমাদের দেশে মিটারগেজ (ছোটলাইন) ও ব্রডগেজ (বড়লাইন) দুই ধরণের রেলযোগাযোগ ব্যবস্থা চালু আছে। এ ব্যবস্থা ভেঙে বহির্বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে শুধু ব্রডগেজ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। এতে করে রেলসেবা আরো গতিশীল হবে। ইতিমধ্যে ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।
দেশের বৃহৎ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা আধুনিকায়ন হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ কারখানার ভেতরে নতুন কোচ নির্মাণ করার জন্য একটি ক্যারেজ স্থাপন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। ওই প্রকল্পটি ভারত সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করবো আমরা।
জনবল সংকটে থাকা সৈয়দপুর রেলকারখানায় শূন্য পদে জনবল নিয়োগ কাজ চলমান রয়েছে উল্লেখ্য করে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, এই কারখানায় মঞ্জুরীকৃত দুই হাজার আটশ’ ৫৯ জন জনবলের বিপরীতে বর্তমানে ৬৭১ জন দিয়ে চলছে সৈয়দপুর কারখানা। এই কারখানার কর্মযজ্ঞ সচল রাখতে জনবল নিয়োগ কাজ শুরু হয়েছে।
এতদিন আইনি জটিলতায় জনবল নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ ছিলো। কারখানায় শূন্য পদের জন্য বিশেষ করে খালাশি পদে মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এ নিয়োগ প্রদান করা হবে। এছাড়াও বর্তমানে রেলের নানা ধরনের উন্নয়ন মূলক কাজ চলমান রয়েছে উল্লেখ করে রেলপথমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশে রেলসেতু নির্মাণ কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে আগামী বছর জুনে এ কাজ শেষ হবে। সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলেই চিলাহাটি থেকে ঢাকাগামী দিনের বেলা আরেকটি নীলসাগর ট্রেন চালু করা হবে।’
আরও পড়ুন: ৮১ বছরের যাত্রা শেষে বন্ধ হলো বিবিসি বাংলা রেডিও
চিলাহাটী-রাজশাহী রেলপথে চলাচলকারী আন্তঃনগর তিতুমীর ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস র্যাক দুটি মেয়াদ উত্তীর্ণ (১৬ বগি বিশিষ্ট ট্রেন) এবং চিলাহাটি-রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত ট্রেন চলাচল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমাদের কোচ সংকট রয়েছে। বিদেশে থেকে কোচ ক্রয় করার লক্ষ্যে চুক্তি করা হয়েছে। কিছু কোচ আমরা হাতে পেয়েছি। বাকিগুলোও হাতে আসলেই তিতুমীর ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনের র্যাক দুটি পরিবর্তন করা হবে। আর চিলাহাটি থেকে রাজশাহী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত তিতুমীর ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি চলাচলের প্রস্তাবটি আমরা বিবেচনায় রাখছি।
একাত্তর/আরএ
