৮১ বছরের যাত্রা শেষে বন্ধ হলো বিবিসি বাংলা রেডিও

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৩, ০৯:৩২ পিএম

দীর্ঘ ৮১ বছর পর বন্ধ হয়ে গেলো বিবিসি বাংলা রেডিও সম্প্রচার। শেষ দুটি অধিবেশন প্রচারিত হয় শনিবার রাতে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিবিসি ওয়ার্ল্ড সেবায় বিশাল পরিবর্তন আসায় বাংলা রেডিও সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে অনলাইন সেবা চালু থাকবে।

বর্তমানে জোর দেয়া হচ্ছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। সেপ্টেম্বর মাসে ওয়ার্ল্ড সার্ভিস কর্তৃপক্ষ বাংলায় রেডিও সম্প্রচার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। 

বিবিসি বাংলা রেডিও যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৪১ সালের ১১ অক্টোবর। বাংলাদেশের মানুষের মাঝে বিবিসি নামটি সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পায় ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়।

যে সময় বিবিসির সাপ্তাহিক বাংলা সম্প্রচার শুরু হয় তখন ইউরোপ জুড়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রণদামামা। জর্জ অরওয়েলের বার্তা লিপির প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে যুদ্ধ প্রসঙ্গ ছাড়াও থাকত সাহিত্য, উপনিবেশের অন্য জায়গার পরিস্থিতিসহ অন্যান্য বিষয়াবলীও।

তবে বিবিসি বাংলা রেডিওর ইতিহাস থেকে জানা যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্রান্তিকালে মিত্র পক্ষের  বক্তব্য ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেবার লক্ষ্য নিয়েই তখন শুরু হয়েছিল বিবিসি বাংলা রেডিওর যাত্রা।

এরপর ১৯৪৪ সালে সপ্তাহে একটির বদলে চালু হয় দুইটি করে ১৫ মিনিটের কথিকাভিত্তিক অনুষ্ঠান। ওই বছরই যুদ্ধের মধ্যে পূর্ণকালীন কর্মী হিসাবে ভারত থেকে এসে যোগ দেন কমল বোস আর রেখা আলি। 

তাদের যোগদানের পর ৩১শে ডিসেম্বর ১৯৪৪ থেকে সপ্তাহে দুটির বদলে একটি ৩০ মিনিটের ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান চালু হয় বিচিত্রা নামে, যা ছিল নানা বিষয়ের পাঁচমিশালি এক অনুষ্ঠান। ওই অনুষ্ঠানের পরিচিতি সঙ্গীত ছিল ভারতের আজকের জাতীয় সঙ্গীত জনগণমন গানটির সুর।

ভারত ১৯৪৭ সালে ভাগ হবার পর ১৯৪৯ সালের অক্টোবরে পূর্ব পাকিস্তানের শ্রোতাদের জন্য সপ্তাহে আর একটি ৩০ মিনিটের বাংলা অনুষ্ঠান শুরু হয় আঞ্জুমান নামে, যেখানে ছিল নারীদের জন্য একটি আলাদা অনুষ্ঠান- পরিচালনা করতেন পিয়ারী আপা ছদ্মনামে শরিফা আলম।

ভারতীয় বিভাগের অন্তর্ভুক্ত বাংলা অনুষ্ঠান বিচিত্রা আর পাকিস্তান বিভাগের অন্তর্গত আঞ্জুমান আলাদা অনুষ্ঠান হিসাবে চালু ছিল ১৯৬৯এর জুন মাস পর্যন্ত। 

এর আগে অবশ্য ১৯৬৫ সালে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের সময় থেকে দুই বিভাগের যৌথ প্রযোজনায় চালু হয় প্রতিদিন সকালে ১৫ মিনিটের বাংলা অনুষ্ঠান- প্রভাতী এবং সেখানেই প্রথম প্রচারিত হয় বিশ্বসংবাদ আর সংবাদ ভাষ্য।

তবে ১৯৬৯ সালটা ছিল বিবিসি বাংলার রেডিওর জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওই বছরই জুন মাসে পূর্ব ও পশ্চিম বাংলা সেকশন দুটি এক হয়ে পরিণত হয় বাংলা বিভাগ। সেই সম্মিলিত বাংলা বিভাগ যাত্রা শুরু করে ১৯৬৯এর ২ জুন ১৫ মিনিটের সান্ধ্য অনুষ্ঠান প্রবাহ নাম দিয়ে।

বিবিসির খবর নিয়ে শ্রোতাদের নির্ভরশীলতা আর বিবিসি বাংলা রেডিওর জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়। মানুষ তখন যুদ্ধের সঠিক খবরের জন্য পুরোপুরি নির্ভর করত বিবিসি বাংলার ওপর।

এরপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রয়োজনে বাংলা অনুষ্ঠানের সময় কখনও বেড়েছে কখনও কমেছে। যুক্ত হয়েছে নানা ধরনের ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান। ছোটদের আসর, বিজ্ঞান ও খেলাধুলার অনুষ্ঠান, মেয়েদের জন্য ম্যাগাজিন, নাটক, গানবাজনার আয়োজন। 


একাত্তর/এসি


ভারতের দিল্লি ও মুম্বইয়ে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (বিবিসি) অফিসে আজ তৃতীয় দিনের মতো তল্লাশি চালাচ্ছে দেশটির কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি)...
শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন মহাঅষ্টমীতে দেবী দুর্গার জীবন্ত প্রতীক হিসেবে এক কুমারী শিশুকে আরাধনা করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
সৌদি আরবে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি নুরুল হকের পরিবার সরকারের কূটনৈতিক সহায়তায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ক্ষতিপূরণের অর্থ বুঝে পেয়েছে। প্রাপ্ত এই সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানাতে নিহতের স্বজনেরা আজ...
বরগুনার বেতাগীতে কিশোর গ্যাং, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, অবৈধ দখলবাজি এবং ছড়িয়ে পড়া অনলাইন জুয়া চিরতরে নির্মূল করতে বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দুই মাসের (৬০ দিন) সময়সীমা বেঁধে...
কেউ যদি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, তবে সে বিষয়ে আইন ও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট, এখানে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর