কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮২তম প্রয়ান দিবস আজ (২২ শ্রাবণ)। এবারও দিনটি পালন উপলক্ষে তার স্মৃতি বিজড়িত কাছারিবাড়ি নওগাঁর পতিসরে স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে কোনো আয়াজন করা হয়নি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ও জেলার রবীন্দ্রভক্তরা।
পতিসর কাছারিবাড়ির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা আবুল কালাম হোসেন জানান, প্রতিবছর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী দিবস পালন করা হলেও গত বছর থেকে তা বন্ধ আছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও কবিগুরুর প্রয়াণ দিবসে এখানে কোনো আয়োজন নেই।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকতেখারুল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮২তম মহাপ্রয়াণ দিবসের সব আয়োজন বন্ধ আছে। ভার্চুয়ালিও কোনো আয়োজন নেই।
পতিসর রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রাহক এম মতিউর রহমান মামুন জানান, কবিগুরু রবীন্দ্রানাথ ঠাকুর কালীগ্রাম পরগণার জমিদারি পেয়ে প্রথম পতিসরে আসেন ১৮৯১ সালে। এরপর থেকে কবি ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত নিয়মিত এই কাছারিবাড়িতে আসতেন। কবিগুরু পতিসর পরগণায় অসংখ্য কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ লেখার পাশাপাশি গবীর প্রজাদের মহাজনদের হাত থেকে বাঁচাতে এবং উন্নয়নে স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ, আধুনিক কৃষি, শ্রীনিকেতন, পল্লীমঙ্গল, পল্লী নিকেতনসহ ২০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তিনি শুধু প্রজাদের কল্যাণই নয়, বীজ বপণ করেছেন অসাম্প্রদায়িকতার। কাছারিবাড়িতে সংরক্ষণ করা আছে এসব দিনের নানা স্মৃতি। তার অনেক কাজই হয়েছে এখানে।
আরও পড়ুন: কবিগুরুর প্রয়াণ দিবসে শিলাইদহে নেই জাতীয় আয়োজন
১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট মারা যান বিশ্বকবি, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে সেই দিনটি ছিল ২২শে শ্রাবণ। এদিন দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে অস্ত যায় বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভার।
দুপুর তিনটার দিকে জোড়াসাঁকো থেকে লাখো জনতার শবযাত্রায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় নিমতলা মহাশ্মশানের উদ্দেশে। সেখানেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের।
একাত্তর/এসি
