শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে নতুন ভোটার ফরম জমা দিতে গিয়ে দুই রোহিঙ্গা শরণার্থী ও এক দালাল আটক হয়েছেন।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাচন অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন- কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বালুখালি ১১নং ক্যাম্পের আবুল ফকির আহমেদের ছেলে মো. ইয়াসিন (২১) ও কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার দমদমিয়া গ্রামের মৃত সোনা আলীর ছেলে মো. হোসেন (২৮)। আর দালাল মো. আহসান উল্লাহ (৫৮) গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের মধ্য দেওয়ানপাড়া এলাকার মৃত কালিম উদ্দিনের ছেলে।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ইয়াসিন ২০১৮ সালে মিয়ানমার থেকে ভারত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। ইয়াসিন আইয়ুব আলী সেজে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলার কালিন্দী ইউনিয়নের জন্ম সনদ গ্রহণ করে এরপর আজ গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম মিজানুর রহমানের সই করা নাগরিকত্ব সনদ নিয়ে গোসাইরহাটে ভোটার হওয়ার জন্য নির্বাচন অফিসে আসেন।
অন্যদিকে মো. হোসেন বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া গ্রাম এলাকা থেকে চারদিন আগে কক্সবাজার সদরে আসেন। গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের দালাল আহসান উল্লাহর সাথে যোগাযোগ করে নূর হোসেন সেজে শরীয়তপুরের নাওডোবা থেকে ইউনিয়নের জন্ম সনদ গ্রহণ করেন এবং গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম মিজানুর রহমানের সই করা নাগরিকত্ব সনদ নিয়ে কোদালপুরের দালালের বাড়িতে আসেন। পরে বিকেলে ভোটার হওয়ার জন্য ওই দালালকে বাবা পরিচয় দিয়ে ও দালালের স্ত্রী আসিয়া বেগমকে মা সাজিয়ে আবেদন করেন।
তবে কোদালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ওই সই আমার নয়। ওটা জাল করা হতে পারে। মো. হোসেন সুন্দর বাংলা বলতে পারলেও ইয়াসিন এলোমেলো বাংলা বলায় সন্দেহ হলে নির্বাচন কর্মকর্তার জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি ধরা পড়ে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. আবু দাউদ জানান, ভোটার হওয়ার জন্য তারা নাগরিক সনদ, বিদুৎ বিল, বাবা-মায়ের আইডি কার্ডসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজ নিয়ে সোমবার বিকাল ৪টার দিকে গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাচন অফিসে আসেন। সেখানে নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা কাগজপত্র চ্যালেঞ্জ করলে তারা ধরা পড়েন। তখন স্থানীয় ওই আহসান উল্লাহ তাদের সঙ্গে ছিলেন। আটক তিনজনকে রাতে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
গোসাইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাকসুদ আলম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। এ ঘটনায় মামলার নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।
গাজীপুরের শ্রমিক অসন্তোষ, কারখানায় আগুন
বনানীর ডিওএইচএস থেকে গ্রেনেড ও গুলি উদ্ধার