সুন্দরবন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে অপহরণের ১৭ দিন পর মাথাপিছু দুই লাখ ৮৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে অবশেষে বাড়ি ফিরেছেন দশ জেলে।
বুধবার রাত সাড়ে ৩ টার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ এলাকায় ওই দশ জেলেকে ফেরত দিয়ে যায় বনদস্যুরা।
মুক্তি পাওয়া জেলেরা হলেন- সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার সুভদ্রাকাটি গ্রামের মো. অজাহারুল ইসলাম, রুইয়ারবিল গ্রামের আলমগীর হোসেন, একই গ্রামের হাফিজুর রহমান, মো. শাহীনুর আলম, দিঘালারাইট গ্রামের মো. রাসেল, শ্রীপুর গ্রামের মো. শাহাজান ঢালী, আশাশুনি উপজেলার চাকলা গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলম, একই গ্রামের মো. অরাফাত, শ্যামনগর উপজেলার দৃষ্টিনন্দন গ্রামের মো. নুরে আলম ও বন্যতলা গ্রামের শাহ্ আলম।
এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি দুবলার চর এলাকা থেকে মুক্তি পাওয়া দশ জেলেসহ মোট ১৫ জেলেকে অপহরণ করা হয়। মুক্তিপণের টাকা দিতে না পারায় বাকি পাঁচজনকে এখনও আটকে রাখা হয়েছে।
এদিকে যাদেরকে মুক্তি দেওয়া হয়নি তারা হলেন- আশাশুনি উপজেলার চাকলা গ্রামের শাহাজাহান গাজী, বাগেরহাটা জেলার রামপাল উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামের মো. মতিয়ার সরদার, একই উপজেলার কাশিপুর গ্রামের খান রফিক, মংলা উপজেলার চিলা গ্রামের নাথন বিশ্বাস ও খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার শশিমনগর গ্রামের রিপন মোড়ল।
অপহৃতদদের মধ্যে চাকলা গ্রামের শাহাজান গাজীর স্ত্রী নাজমা খাতুন জানান, স্বামী বাড়ি আসছে খবর পেয়ে গতকাল রাত ৩টা পর্যন্ত জেগে বেড়িবাঁধের ওপর বসে ছিলাম। কিন্তু প্রতাপনগরের সাতজন আসলেও আমার স্বামীসহ আমাদের চাকলা গ্রামের তিনজন ফিরে আসেনি। এত টাকা আমার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব না। স্বামীকে মুক্ত করে আনার জন্য সকলের সহযোগিতা চান তিনি।
প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী তার ইউনিয়নের সাতজন জেলে ফিরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাকিদের কাছে নৌকা থাকায় এবং মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ না হওয়ায় ডাকাতরা তাদেরকে ছাড়েনি।
সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন কর্মকর্তা এ.বি এম হাবিবুর ইসলাম জানান, ১৫ জেলেদের মধ্যে দশজন জেলে বাড়ি ফিরেছে বলে শুনেছি। তারা এখনও পর্যন্ত আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি।
অপারেশন ডেভিল হান্টে গ্রেপ্তার আরও ১৬৬৫
আট বছর পর নাফ নদীতে মাছ ধরার অনুমতি, রয়েছে পাঁচ শর্ত