নারায়ণগঞ্জ থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী মিম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সোহাগকে (৪৫) হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় পটুয়াখালী সদর উপজেলার পায়রাকুঞ্জ ফেরীঘাট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে তাকে তার ব্যবহৃত গাড়িতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দিলে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। তার শরীরে ইলেকট্রিক শক ও বেধড়ক মারধর করায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় পুলিশ দুটি গাড়ি উদ্ধার করেছে। তবে ড্রাইভারসহ অপহরণকারীরা পালিয়ে গেছে।
উদ্ধার ব্যবসায়ীর নারায়ণগঞ্জের নিউ চাষারা ৮৯নং জামতলা এলাকার মৃত আব্দুস সালাম ও মোসা. রহিমা বেগম দম্পতির ছেলে।
অপহৃত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহাগ জানান, তিনি নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের এক জন পরিচালক পদে আছেন। রোববার রাত ৯টার দিকে তিনি তার নিতাইগঞ্জের অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে তার গাড়িটি তুলারাম কলেজ গেটের সামনে আসলে ৫ থেকে ৬ জনের একদল সন্ত্রাসী তার গাড়ির গতিরোধ করে গাড়িতে উঠেই তার হাত পা ও চোখ বেধে ফেলে। এসময় তাকে মারধরও করা হয়।
ব্যবসায়ী সোহাগের দাবি, মারধর করার পর তার শরীরের বিভিন্নস্থানে ইলেকট্রিক শক দিলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পরেন। এরপর তিনি সোমবার বেলা ১১টার দিকে জ্ঞান ফেরার পর পটুয়াখালীর পায়রা কুঞ্জের ফেরিঘাটে লোকজনকে ইশারা করেন তাকে উদ্ধার করার জন্য। পরে লোকজন এসে পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী আড়াইশো বেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ জানায়, সোমবার সকালে অপহরণকারীরা ব্যবসায়ী সোহাগ মিয়াকে পটুয়াখালীর পায়রাকুঞ্জ ফেরিঘাটে নির্মাণাধীন সেতুর বালির মাঠে গাড়িসহ ফেলে রেখে অন্য একটি গাড়িতে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় লোকজন দুপুর ১টার দিকে দুটি গাড়ি অনেক সময় পড়ে থাকতে দেখে গাড়ির পাশে গিয়ে দেখতে পান গাড়ির মধ্যে হাত পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় এক লোক। ওই লোক তাদের সাহায্য চাইলে তারা থানা পুলিশকে খবর দিলে ডিবি, সদর থানা ও নৌ পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশের সাথে পটুয়াখালী পুলিশ যোগাযোগ করলে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের একটি দল তার স্ত্রীসহ সন্ধ্যা ৬টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে পটুয়াখালীতে পৌঁছে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্যবসায়ী সোহাগকে ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপারেশন) মো. সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, দুপুরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়িতে থাকা নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী মো. সোহাগ উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের একটি দল ও তার স্ত্রী তানিয়া আক্তার হেলিকপ্টার নিয়ে এসে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে গেছেন।
তিনি জানান, সোহাগের ড্রাইভারের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে অপহরণের সাথে তার ড্রাইভারের যোগসাজশ থাকতে পারে। আমাদের এখানে একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। যেহেতু ঘটনাস্থল নারায়ণগঞ্জ এবং ওই ব্যবসায়ী একইস্থানের তাই সেখানকার পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করবে।
সিলেটে ৭০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত