ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মরদেহবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্সে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ডাকাতিতে বাধা পেয়ে ডাকাত দল মরদেহে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে আঘাত করেছে। বাদ যান নাই অ্যাম্বুলেন্সে থাকে নারীসহ ৯ যাত্রী। তাদের ভাষ্য, চোখের সামনে মৃত ব্যক্তির ওপর এমন পাশবিক নির্যাতনের দৃশ্য এর আগে কেউ দেখিনি। এ নিয়ে এলাকাজুড়ে একদিকে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ, অন্যদিকে আতঙ্ক।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) দিবাগত রাত একটার দিকে জেলার নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের তিলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ডাকাতের হামলায় আহতরা হলেন- গাড়ির চালক মো. ফিরুজ মিয়া, গাড়ির মালিক মো. খলিল মিয়া, নিহতের স্বজন রাসেল মিয়া, ছালেক মিয়া, নাহিদ মিয়া, মো. আলমগীর মিয়া, মো. সালাউদ্দিন, আলেয়া বেগম ও আলী নেওয়াজ মিয়া।
ভুক্তভোগীরা জানান, পূর্বভাগ ইউনিয়নের মুকবুলপুর গ্রামের ছবদর আলী নামে এক ব্যক্তি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার মিরপুর আহসানিয়া হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মারা যান। এর কিছুক্ষণ পরই ঢাকা থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়িতে ফেরার পথে ওই এলাকায় এলে সশস্ত্র ডাকাতরা সড়কে গাছ ফেলে গাড়ি আটকায়। এরপর গাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ৯টি মুঠোফোন ও নগদ অর্ধ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
ডাকাতদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ ও মালামাল না পাওয়ায় মরদেহের ওপরও হামলা করে জানান নিহতের ছেলে মো. আলমগীর মিয়া।
তিনি বলেন, টাকা-পয়সা নিয়েছে সেটা এতোটা কষ্টদায়ক না। কিন্তু বাবার মরদেহের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। দাফন করে আইনি ব্যবস্থা নেবো।
সরাইল সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তপন সরকার বলেন, ওই স্থানটি ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয় লোকজন যারা রাতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করে তাদের বলা হয়েছে আসার আগে পুলিশ প্রটোকল নেওয়ার জন্য। ওই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশের টহল টিম চলে এসেছিল। পরে ডাকাতদল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রাস্তার পাশে হাওর দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।
শিশুদের ঝগড়া রূপ নিলো বড়দের সংঘর্ষে, নিহত এক
নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে একদিনে দুই তথ্য