কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি ‘ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানায়’ স্থানীয় সাংবাদিক সোহরাব হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) আটকের ১৮ ঘণ্টা পর আদালত থেকে ছাড়া পেয়েছেন তিনি। বিষয়টি জানাজানির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তবে আদালত ও পুলিশ প্রশাসন একে ‘ভুলবশত’ হওয়া ঘটনা বলে স্বীকার করেছে।
সাংবাদিক সোহরাব হোসেন দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার দেবিদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি ও দেবিদ্বার রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাহী সদস্য।
ভুক্তভোগী সোহরাব হোসেন জানান, সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে দেবিদ্বার উপজেলা কার্যালয়ের সামনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। এ সময় দেবিদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ভবতোষ কান্তি দের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে কুমিল্লার সিআর মামলা নম্বর-৫৭৩/২০২৫-এর একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় তাকে আটক করে। সোহরাব হোসেন পরোয়ানার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলেও পুলিশ কোনো কথা শোনেনি।
থানায় ১৮ ঘণ্টা আটকে রাখার পর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় তাকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়। কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সায়মা শরীফ নিশাত কাগজপত্র যাচাই করে সোহরাব হোসেনকে তাৎক্ষণিক ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালত থেকে জানানো হয়, যে পরোয়ানাটি থানায় পাঠানো হয়েছিলো তা সঠিক ছিলো না।
সোহরাব হোসেন বলেন, জামিন থাকার পরও আমাকে হয়রানি করতে ভুয়া পরোয়ানা ব্যবহার করা হয়েছে। আমি পুলিশকে জামিনের বিষয়ে বারবার বললেও তারা শোনেনি। এই ভুয়া পরোয়ানার কারণে আমার সম্মানহানি হয়েছে। আমি বিচার চেয়ে আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবো।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আদালতে বিচারকের সই ও সিল জালিয়াতির মাধ্যমে একটি অসাধু চক্র নিরীহ মানুষকে হয়রানি করছে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে কতিপয় পুলিশ, আইনজীবী ও আদালতের কর্মচারীদের সমন্বয়ে এই চক্রটি গড়ে উঠেছে।
দেবিদ্বার থানার এসআই ভবতোষ কান্তি দে বলেন, আদালত থেকে পরোয়ানা থাকায় আমরা সোহরাব হোসেনকে আটক করে আদালতে পাঠাই। পরোয়ানাটি সঠিক কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করার সুযোগ আমাদের নেই। পরে জানতে পেরেছি পরোয়ানাটি সঠিক ছিলো না।
কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চার নম্বর আমলি আদালতের পেশকার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি ভুলবশত থানায় চলে গিয়েছিল। তাকে আদালতে নিয়ে আসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এটি একটি ভুল ছিলো।
