খাগড়াছড়িতে আলাদা দুর্ঘটনায় দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১৭ মে) মধ্যরাত ও সোমবার (১৮ মে) ভোরে জেলার রামগড় উপজেলার নাকাপা এলাকায় এই ঘটনাগুলো ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার শান্তিনগর এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে শাহ আলম (৩৬) এবং পাবনা জেলার বাসিন্দা মো. রব শেখ। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, নিহত রব শেখ একটি দূরপাল্লার বাসের চালক ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, রোববার দিবাগত রাত ১২টার পর রামগড় উপজেলার নাকাপার চাষীনগর এলাকায় ঢাকাগামী ‘শান্তি পরিবহন’ নামের একটি বাস থামিয়ে চাকা মেরামত করা হচ্ছিলো। শাহ আলম নামের এক যাত্রী চিকিৎসার জন্য ওই বাসে করে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। চাকা মেরামতের সময় ঢাকাগামী ‘শ্যামলী পরিবহন’–এর একটি দ্রুতগতির বাস শান্তি পরিবহনকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই যাত্রী শাহ আলমের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জুনায়েদ (২৫) ও রুবেল কর্মকার (৩৯) নামের আরও দুই যাত্রী আহত হন। রাতেই তাদের উদ্ধার করে রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে সোমবার ভোরে জালিয়াড়া-রামগড় সড়কের নাকাপা বাজারের যাত্রীছাউনীর সামনে থেকে মো. রব শেখ নামের ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নাকাপা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. কাউছার জানান, নাকাপা যাত্রীছাউনীর সামনে পড়ে থাকা ওই ব্যক্তির ব্যাগে একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যায়। সেই সূত্রেই তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিহত ব্যক্তি দুর্ঘটনা ঘটানো শ্যামলী পরিবহনের চালক ছিলেন। দুর্ঘটনার পর বাস রেখে পালানোর সময় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নাজির আলম জানান, রাতে দুর্ঘটনাকবলিত শ্যামলী পরিবহন (ঢাকা মেট্রো-ব, ১৫-১১৭৮) এবং শান্তি পরিবহন (ঢাকা মেট্রো-হ, ১৪-২৪২৩) নামের বাস দুটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত চালক ও সহকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
