গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজের কারণে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে লক্ষ্মীপুর জেলার প্রায় পাঁচ হাজার আবাসিক গ্রাহকের ঘরে চুলা জ্বলা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি তিনটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। চরম বিপাকে পড়েছেন গৃহিণী, সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ও সাধারণ যাত্রীরা।
তবে বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের আশ্বাস, দ্রুতগতিতে মেরামতের কাজ চলছে এবং আজ রোববার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যার পর থেকেই সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত ৯টার পর লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী মহাসড়কের বেগমগঞ্জ উপজেলার কেন্দুরভাগ এলাকায় একটি সেতুর নিচে বাখরাবাদ গ্যাসের মূল পাইপলাইনে লিকেজ দেখা দেয়। নিরাপত্তার স্বার্থে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড অবিলম্বে ওই লাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।
হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন লক্ষ্মীপুর পৌর এলাকার আবাসিক গ্রাহকেরা। শহরের মদিন উল্লাহ হাউজিং এলাকার গৃহিণী রেহানা আক্তার জানান, কয়েক দিন ধরে চুলা না জ্বলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সময়মতো রান্না করতে না পেরে বাইরে থেকে খাবার কেনা অথবা বিকল্প এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করতে গিয়ে বাড়তি খরচ গুণতে হচ্ছে। একই এলাকার গৃহিণী শাহিদা বেগম ও জাকির হোসেন জানান, শিশুদের নাশতাসহ নিত্যদিনের রান্না বন্ধ থাকায় এবং বিকল্প জ্বালানির বাড়তি খরচে সংসারের বাজেট এলোমেলো হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, গ্যাস সঙ্কট দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা। শহরের তিনটি ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় চালকদের দূরবর্তী এলাকায় গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে গেছে বলে জানান চালক রুবেল হোসেন, সোহেল রানা ও আবুল কালাম।
এদিকে সুযোগ বুঝে সিএনজি চালকেরা সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন কামাল হোসেন ও সুমাইয়া আক্তার নামে দুই যাত্রী। চালকদের অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ ও ভোগান্তির দায় যাত্রীদের ওপর চাপানোয় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সহকারী প্রকৌশলী মো. খোরশেদ আলম জানান, কেন্দুরভাগের একটি সেতুর নিচে পানির গভীরে পাইপলাইনের লিকেজটি থাকায় মেরামতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবুও কারিগরি দল নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বাখরাবাদ গ্যাসের ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) ও স্থাপনা প্রধান অতুল কুমার নাগ বলেন, লিকেজ মেরামতের কাজ অনেকটাই শেষের পথে। সবকিছু ঠিক থাকলে রোববার সন্ধ্যার পর থেকেই গ্রাহকেরা আগের মতো নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ পাবেন বলে আশা করছি।
