লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে চোরচক্রের খপ্পরে পড়ে নগদ টাকা ও মানিব্যাগ হারিয়েছেন এক প্রবাসী রোগী। পরে আটক ওই চোরকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, একই জেলার রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার বাজারে ভোররাতে লাগা আগুনে ৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) জেলা সদর হাসপাতাল ও রামগতিতে এসব ঘটনা ঘটে।

হাসপাতালে টাকা চুরি, আটক চোরকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ
সকালে ছয় বছরের শিশু তন্বীকে চিকিৎসার জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ও প্রবাসী শ্যামল। পাঁচ টাকার টিকেট কাটার লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় চোরচক্র তার পকেট থেকে মানিব্যাগ ও নগদ এক হাজার ৭০০ টাকা হাতিয়ে নেয়।
ঘটনার পর হাসপাতালের কর্মচারীরা সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করলেও তাকে পুলিশের হাতে না তুলে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী শ্যামল ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালে দালাল ও চোরদের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে, যাদের কাছ থেকে আনসার ও কর্মচারীদের একাংশ নিয়মিত অনৈতিক সুবিধা নেন।
অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির দাবি করেন, আটক ব্যক্তিটি কর্মচারীদের পাশ কাটিয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেছে। সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) অরূপ চন্দ্র পাল জানান, পুলিশ আসার আগেই আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে থাকলে তা দুঃখজনক এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

রামগতিতে ভোরে পুড়লো ৯ দোকান
এদিকে একই দিন ভোরে রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার বাজারের পশ্চিম গলিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তেই তা আশপাশের টিনশেড দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে রামগতি ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে একটি মুদি দোকান, সেলুন, ওষুধের দোকান, হোটেল ও প্লাস্টিকের দোকানসহ মোট ৯টি দোকান পুড়ে গেছে।
রামগতি ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর জাকির হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে অনেক মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
