যারা গত ১৬ বছর দেশের গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করেছিল, তারা সরাসরি দৃশ্যপটে না থাকলেও তাদের দোসর ও প্রেতাত্মারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সমাজে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।
তিনি বলেন, এই গোষ্ঠীটি সংসদের ভেতরে এক কথা বলছে, আবার বাইরে এসে সরকারকে একদিনের জন্যও শান্তিতে দেশ চালাতে না দেয়া এবং তথাকথিত ‘একদফা’ আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। দেশের এই অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পাঁয়তারা সম্পর্কে সবাইকে সর্বদা সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার সকালে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ইয়ারপুর ইউনিয়নের হাফেজ খাতুন ইসলামিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সংসদ সদস্য ফারুক বলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি কিংবা ধনীদের নাম অন্তর্ভূক্ত করার চেষ্টা করা হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। প্রকৃত দুস্থ ও প্রাপ্য ব্যক্তিরাই যেন এই সুবিধা পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সততা ও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মী ও স্থানীয়দের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শেখ হাসিনার আমলের মতো গুটিকয়েক হোন্ডা-গুন্ডা বাহিনী দিয়ে কেন্দ্র দখলের দিন এখন আর নেই। এবার সৎ, পরিচ্ছন্ন ও জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা মানুষদেরই চেয়ারম্যান ও মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত করতে হবে। নির্বাচনের আগে ভালো সেজে নির্বাচনের পর রূপ বদলে ফেলা সুবিধাভোগীদের বর্জন করারও পরামর্শ দেন তিনি।
সরকারের গতিপথ তুলে ধরে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান বিএনপি সরকারের বয়স মাত্র আট মাস। হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন কেবল কোনো দলের নেতা-কর্মীদের সুবিধা দেওয়ার জন্য নয়, বরং দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য। এই সরকার প্রমাণ করে ছাড়বে, তারা একটি গণতান্ত্রিক, সৎ ও গণমুখী সরকার। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন ও ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচিসহ জনগণের কল্যাণে গৃহীত প্রতিটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বক্তব্যের শেষভাগে তিনি এলাকা থেকে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, ইভটিজিং, মাদকের ব্যবহার ও মাদক কারবারিদের চিরতরে নির্মূল করতে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ও সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এরফানুল হক চৌধুরী, সমাজসেবা অফিসার উপন্যাস চন্দ্র দাস, ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক এনামুল হকসহ স্থানীয় রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন স্তরের নেতরা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
