উদ্ধার অভিযানের সপ্তম দিনে পদ্মায় ডুবে যাওয়া ফেরি রজনীগন্ধাকে নদীর তলদেশ থেকে পানিতে ভাসিয়েছে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়। উদ্ধার করা হয়েছে আরও একটি ট্রাক। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছে দুটি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রত্যয়ের ক্রেনের মাধ্যমে নদীতে ডুবে থাকা ফেরিটিকে পানির মধ্যে ভাসানো হয়। আর ট্রাকটি উদ্ধার করেছে আরেক উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম।
বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক এসএম আজগর আলী জানান, সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রজনীগন্ধা ফেরিটি পানিতে ভাসানো হয়। এর আগে ফেরির নিচের অংশে এয়ার লিফটিং ব্যাগের মাধ্যমে ওপরে তোলার কাজ করা হয়। তবে ফেরিটি উল্টানো অবস্থায় ভাসাতে পারলেও সোজা করানো যায়নি। ডুবুরিরা চেষ্টা করছেন ফেরিটি উল্টিয়ে সোজা করতে।

তবে অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় আজকের মতো আপাতত উদ্ধার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে আবারও ফেরিটি সোজা করে তীরের কাছে টেনে আনার চেষ্টা করা হবে, যোগ করেন আজগর।
এদিকে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত থাকা নৌ বাহিনীর লেফটেনেন্ট শাহ পরাণ জানান, বিকেলের দিকে নদীতে ডুবে থাকা আরও একটি ট্রাককে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হয়েছে। এই নিয়ে ডুবে যাওয়া ৯ ট্রাকের মধ্যে মোট সাতটি উদ্ধার করা হলো। এখনও তলিয়ে আছে আরও দুইটি। সেগুলো অনুসন্ধানে কাজ করছে উদ্ধারকারী জাহাজ ঝিনাই। সোনার ইকো সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে ওই দুটি ট্রাক খোঁজা হচ্ছে। রাতের বেলায় আপাতত উদ্ধার কাজ বন্ধ রাখা হবে। বুধবার সকাল ১০টা থেকে আবারও কাজ শুরু হবে।

মঙ্গলবার রাত ১২টার পর রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া প্রান্ত থেকে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসে ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি রজনীগন্ধা। ফেরিটিতে ৯টি মালবাহী যানবাহন ছিল। রাত দেড়টার দিকে ঘন কুয়াশার কারণে ফেরিটি পাটুরিয়ার পাঁচ নম্বর ঘাটের অদূরে পদ্মা নদীতে আটকা পড়ে। পরের দিন সকাল আটটার দিকে ফেরিটি ডুবে যেতে থাকে। এক পর্যায়ের সম্পূর্ণভাবে পানিতে তলিয়ে যায়। এ ঘটনায় উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। তবে নিখোঁজ থাকা ফেরিটির সহকারী মাস্টারের মরদেহ ছয় দিনের মাথায় উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
ফেরি ডোবার কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআইডব্লিউটিএ গঠিত দুটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
পাঁচ দিন পর রজনীগন্ধা ফেরির হুমায়ুনের মরদেহ উদ্ধার