মানিকগঞ্জে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের হিসাবরক্ষক শহিদুল ইসলাম হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে হত্যায় সরাসরি যুক্ত দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঈদের আগের রাতে বাসে ডাকাতির শিকার হন শহিদুল। পরে তাকে বাস থেকে ফেলে হত্যা করা হয়।
রোববার বিকেলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান এই তথ্য জানান।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশের অভিযান দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার শ্যামনগর গ্রামের মিস্টার আলী (২৩) ও একই গ্রামের মো. শাহীন(১৮)। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই।
নিহত শহিদুল ইসলাম খানের বাড়ি সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার ভাজনদাসগাথী এলাকায়। তিনি মানিকগঞ্জ জেলা কারাগারে চাকরি সুবাদে পরিবারসহ মানিকগঞ্জে ভাড়া বাসায় থাকতেন। এরপর কাশিমপুর কারাগারে কেন্দ্রীয় কারাগারে বদলি হলেও তার পরিবার মানিকগঞ্জেই থাকতো।
পুলিশ সুপার জানান, মিস্টার আলী শুকতারা পরিবহন নামে একটি বাসের চালক, শাহীন সহকারী। তারা দুই জনসহ আরও তিন জন ডাকাতির পরিকল্পনা নিয়ে ঈদের আগের দিন (১৬ জুন) রাতে গাবতলী থেকে বাসে যাত্রী ওঠান।
তিনি জানান, নবীনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে কাশিমপুর কারাগারের হিসাবরক্ষক মানিকগঞ্জে বাসায় আসার উদ্দেশে ওই বাসে ওঠেন। বাসটি মানিকগঞ্জে পৌঁছানোর আগেই অন্য যাত্রীরা গন্তব্যে নেমে যান। বাসে থাকেন শুধু শহিদুলসহ আরেক যাত্রী।
পরিকল্পনা অনুযায়ী বাসচালক, সহকারীসহ পাঁচ ডাকাত দুই যাত্রীকে মারধর করে টাকা, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। মানিকগঞ্জ সদরের ধলেশ্বরী সেতুর আগে অজ্ঞাত ওই যাত্রীকে তারা বাস থেকে ফেলে দেয়। পরে ধলেশ্বরী সেতুতে ওঠার পর বাসে থেকে একই কায়দায় ফেলে দেওয়া হয় শহিদুল ইসলামকে। এসময় তিনি সেতুর নিচে পড়ে প্রাণ হারান।
পুলিশ সুপার আরও জানান, আসামিদের কাছ থেকে শহিদুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ তিনটি ফোন ও নগদ চার হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
ঈদের দিন (১৭ জুন) সকালে ৯৯৯ এ খবর পেয়ে ধলেশ্বরী সেতুর নিচ থেকে শহিদুলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় শহিদুলের মেয়ে মাইশা মালিহা বিভা বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্তে নেমে হত্যায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
নিজ অস্ত্রের গুলিতে আহত পুলিশ