রাজবাড়ীতে ধানক্ষেতে একই রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপ পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন কৃষকরা। তবে এই ঘটনার পর থেকে ধান কাটতে মাঠে যেতে কৃষক ভয় পাচ্ছেন।
রোববার (২৫ মে) সকালে জেলার পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের পদ্মার চরে ধানের মাঠে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কৃষক ইয়াকুব আলী বলেন, আমিসহ ছয় জন দিনমজুর জমিতে ধান কাটতে যাই। ধান কাটার সময় হঠাৎ বড় একটি সাপ দেখতে পাই। এসময় সবাই মিলে কাচি দিয়ে সাপটি মেরে ফেলি। পরে জানতে পারি এটি রাসেলস ভাইপার সাপ। এখন তো ভয়ে আছি সাপ নিয়ে।
জমির মালিক শিমুল প্রামাণিক বলেন, এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় কৃষকদের মধ্যে ভয় কাজ করছে। অনেকেই পদ্মার চরে ধান কাটতে যেতে চাচ্ছে না।
পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আবু দারদা বলেন, এ বিষয়ে দ্রুতই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাবাসপুর ও বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করা হবে।
কতোটা ভয়ঙ্কর রাসেলস ভাইপার?
সাধারণত সব ধরনের সাপ মানুষকে এড়িয়ে চলে। কিন্তু রাসেলস ভাইপারের স্বভাব ঠিক উল্টো। নিজেদেরকে বিপন্ন মনে করলে আক্রমণ করে। বিষধর সাপ হিসেবে পৃথিবীতে চন্দ্রবোড়ার অবস্থান পঞ্চম। তবে, হিংস্রতা আর আক্রমণের দিক থেকে সবার উপরে। আক্রমণের ক্ষেত্রে এটি এত ক্ষিপ্র যে, ১ সেকেন্ডের ১৬ ভাগের ১ ভাগ সময়ে কামড়ের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে পারে। এরা প্রচণ্ড জোরে হিস হিস শব্দ করতে পারে।
রাসেলস ভাইপার অতর্কিতে মানুষকে আক্রমণ করে। সাধারণত দিনের বেলা এটি বেশি সক্রিয় আচরণ করে। রাসেলস ভাইপার সাপ ঘন জঙ্গল এড়িয়ে চলে এবং ঘাসে ভর্তি খোলা মাঠ, ঝোপঝাড়ে আস্তানা গাঁড়ে। এরা কামড়ানোর সময় সব বিষ ঢেলে দেয়। রাসেলস ভাইপার কামড় দেয়ার পর দংশনের স্থানে প্রচন্ড ব্যথা হয় এবং ফুলে যায়। সে সাথে ঘন্টাখানেকের মধ্যে এর আশেপাশের কিছু জায়গাও ফুলে যায়।
বিভিন্ন চিকিৎসা সাময়িকী থেকে জানা যায়, গোখরো সাপের দংশনের গড় আট ঘণ্টা পর, কেউটে সাপের দংশনের গড় ১৮ ঘণ্টা পর ও চন্দ্রবোড়া বা রাসেলসস ভাইপারের দংশনের গড় ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন পর রোগীর মৃত্যু হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই সময়সীমার মধ্যেই যদি অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা যায় তাহলে আক্রান্ত ব্যক্তির জীবন বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বেঁচে যায় ।
ভেনম রিসার্চ সেন্টার যা বলছে
রাসেলস ভাইপারের কামড়ের ঝুঁকি নিয়ে দেশের একমাত্র ভেনম রিসার্চ সেন্টার বলছে, এই সাপের কামড়ে মৃত্যুর চেয়ে সুস্থতার হার বেশি। ক্ষিপ্রগতিতে ছোবল দিলেও এটি মূলত অলস প্রকৃতির সাপ। দেশে এর পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনমও আছে।
রাসেলস ভাইপার দেশের সবচেয়ে বিষধর বা সবচেয়ে প্রাণঘাতী সাপ নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সারাদেশে রাসেলস ভাইপার নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবে এই সাপের নামে অন্য প্রজাতির সাপও পিটিয়ে মারা হচ্ছে।
আরাম প্রিয় রাসেলস ভাইপার আসলে কতটা ভয়ঙ্কর? চট্টগ্রামের ভেনম সেন্টারের গবেষকরা বলছেন, রাসেলস ভাইপার কেবল আক্রান্ত হলেই আত্মরক্ষার জন্য কামড় দেয়।
ভেনম রিসার্চ সেন্টারের সূত্র জানায়, এই সাপ ডাঙায় খুবই স্লো মুভমেন্ট করে। সেক্ষেত্রে এ সাপটা মানুষকে তেড়ে কামড়ানোর প্রশ্নই আসে না। তবে, এরা দ্রুত গতিতে কামড় দিতে পারে।
