আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি কেমন হবে গোপালগঞ্জের ভোট? আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই জেলাটিতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে যেমন নিরাপত্তা শঙ্কা আছে, তেমনি ভোটার উপস্থিতি নিয়েও পরিষ্কার কোনো ধারণা মিলছে না। তবে ভোটের ছুটিতে দলে দলে বাড়ি ফিরছে মানুষ। প্রার্থীদের বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকলেও ভোটকেন্দ্রে তার খুব বেশি প্রভাব পড়বে না।
ভোটের বাকি আর মাত্র একদিন, তারপরও নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে চাইলে অধিকাংশ মানুষের মধ্যেই অস্বস্তি দেখা গেছে।
তবে ভোটের ছুটির বেশ ভালো প্রভাব জেলাটিতে লক্ষ্য করা গেছে। ঘরমুখী মানুষের ভিড় বাড়ছে। কেন্দ্রে যাবেন কি না—এমন প্রশ্নে এক তরুণ ভোটার জানান, তার এটি প্রথম ভোট এবং তিনি অবশ্যই কেন্দ্রে যাবেন।
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় দলটির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই জেলার মানুষের মধ্যে কিছুটা হতাশা থাকলেও কেউ কেউ আশার কথা শোনাচ্ছেন। বিগত ১৭ বছরের নির্বাচনগুলোর প্রচারণায় আওয়ামী লীগের ভিআইপি প্রার্থীদের সশরীরে খুব একটা দেখা না গেলেও এবার চিত্র ভিন্ন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থী।
প্রার্থীরাও বাস্তবতা বুঝে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোট ব্যাংক নিজেদের অনুকূলে আনার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।
গোপালগঞ্জ-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সেলিমুজ্জামান মোল্লা মনে করছেন, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থেই আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা ধানের শীষকে বেছে নেবেন।
তবে এই ভোট ব্যাংক নিজের ঝুলিতে ভরতে পিছিয়ে নেই অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও। নিজ দল ক্ষমতায় আসলে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীর ওপর জুলুম না চালানোর আশ্বাস দিচ্ছেন তারা।
গোপালগঞ্জ-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মাদ আবদুল হামীদ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহামদ মিজানুর রহমান ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে এই অভয় দিচ্ছেন।
ভোটের দিন ঘিরে প্রার্থীদের মধ্যে শঙ্কাও কাজ করছে। জেলার তিনটি আসনের মোট ৩৯৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯৭টিকেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
নেতৃত্বের দৌড়ে ‘অচেনা’ শফিকুর: রয়টার্সের চোখে জামায়াত আমির