নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রির সময় দাবি করা টাকা না দেওয়ায় এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন।
বুধবার (১৯ মে) দিবাগত সাড়ে ১২টার দিকে আড়াইহাজারের দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম ওসমান গনি (৪৫)। তিনি উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। নিহত ওসমান গনি আড়াইহাজারের ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের বড় বিনাইরচর এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে।
হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল অভিযুক্ত দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রমজানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহতের স্বজনরা জানান, ওসমান গনি দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও কাউন্দা চকে জমি থেকে মাটি কিনে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করছিলেন। ওই সময় দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রমজানসহ কয়েকজন তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। ওসমান গনি সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
গত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাটি কাটার ভেকুটি নষ্ট হয়ে গেলে ওসমান গনি আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে পাঁচগাঁও এলাকায় যান। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা রমজান ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে ওসমান গনিসহ বেশ কয়েকজনকে গুরুতর জখম করে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় ওসমান গনিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যার কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে ওসমান গনির সমর্থক ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। তারা আড়াইহাজার-ভুলতা সড়কের বিনাইরচর এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এ সময় উত্তেজিত জনতা হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন এবং বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এছাড়া কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। অবরোধের ফলে ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে প্রধান অভিযুক্ত রমজানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। নিহত বিএনপি নেতার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম জানান, মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে কুপিয়ে হত্যার সংবাদ পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
