১৫ বছর আগেও বাগেরহাটে সুপেয় পানি সদরের পৌরবাসীসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছে ছিল দুরুহ। কিন্তু এখন তার প্রায় সব পৌরবাসীর ঘরে ঘরে। সুপেয় পানির জন্য জেলায় খোঁড়া হয়েছে ১৫৯টি পুকুর, রেইনওয়াটার হারভেস্টিম সিস্টেম স্থাপনসহ বসানো হয়েছে পানি থেকে লবণ দূর করার প্লান্ট। জেলায় এখন প্রায় ১০ লাখ মানুষ সুপেয় পানি পাচ্ছে, আরও প্রকল্প চলমান। বিদ্যুতে ঘটেছে বিপ্লব। জেলার শহর থেকে শুরু করে গ্রাম, সবখানেই লেগেছে উন্নয়নের ছোয়া। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা, সড়ক, নৌ যোগাযোগ, রেলযোগাযোগ ও অবকাঠামোসহ সবখানেই ঘটেছে আমূল পরিবর্তন। কমে এসেছে দুর্বৃত্তায়ন।
মোংলায় ইপিজেডের পাশাপাশি অর্থনৈতিক জোন করা হয়েছে। খুলনা-মোংলা রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। জেলার কয়েক হাজার ভূমি ও গৃহহীনদের জমিসহ বসত বাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছে সরকার। বীরমুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কমপ্লেক্সে ও বসত বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। মৃতপ্রায় মোংলা সমুদ্র বন্দর কর্মচাঞ্চলতা ফিরে পেয়েছে। পলি মাটি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া মোংলা ঘষিয়াখালী চ্যানেলসহ প্রায় ২০০টি নদী-খাল পুন খনন করে পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সুন্দরবনে বাঘরক্ষাসহ পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
জেলায় হতদরিদ্রদের স্বল্পমুল্যে নানাভাবে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে সরকার। বর্তমান সময়ে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে জেলা জুড়ে। জেলার মোট জনসংখ্যার তার্গেট অনুযায়ী প্রায় শতভাগ মানুষকে করোনার ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হয়েছে। বর্তমানে জেলার উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রেও এই জেলায় ব্যাপক সফলতা রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের কর্মকাণ্ডে এক সময়ের অবহেলিত বাগেরহাট এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ খুঁশির কথাই জানালেন।

বাগেরহাটের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বেশকয়েকজন নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, আগে তাদের এলাকায় কাদামাটির রাস্তা ছিল। বাড়িতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ছিল না। তাদের মতো এলাকার অনেকের খেয়ে না খেয়ে দিন গেছে। এখন তাদের এলাকায় পিচঢালা রাস্তার ওপর দিয়ে বিভিন্ন ধরণের যানবাহন চলাচল করে। এলাকার সব বাড়িতেই বিদ্যুতের আলো জ্বলে। ভূমি ও গৃহহীন পরিবারগুলো সরকারের দেওয়া ভূমিসহ পাকাবাড়িতে বসবাস করছে। গ্রামের অনেক দরিদ্র মানুষ সরকারের দেওয়া স্বল্প মূল্যে খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে। গ্রামে বসবাস করেও তারা শহরের অনেক সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে। তাদের গ্রামে রীতিমতো শহরের হাওয়া লেগেছে। তাদের এলাকার প্রতিটি পরিবার মোবাইল এবং ইন্টারনেটের সুবিধা ভোগ করছে। সব ক্ষেত্রেই তারা উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় তাদের এলাকার বিভিন্ন কৃষি পণ্য এখন সরাসরি ঢাকায় বিক্রি হচ্ছে। নানা ভাবে এলাকার সব মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে। একসময় অনেক কষ্টে দিন গেলেও এখন তারা সংসারের খরচ মিটিয়ে ভর্বিষতের আশায় সঞ্চয করছে। এখন তারা স্মার্ট বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে।
বাগেরহাট জেলা চিংড়ি চাষী সমিতির সভাপতি ফকির মহিতুল ইসলাম সুমন বলেন, বর্তমান সরকারের ১৫ বছরে জেলা জুড়ে ব্যপক উন্নয়ন হয়েছে। চিংড়ি চাষের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করা হচ্ছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে তাদের উৎপাদন করা কৃষিপণ্য এবং চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছ সহজে বাজারজাত করতে পারছে।
বাগেরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা শেখ কামরুজ্জামান টুকু বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হয়েছে তা তুলনাবিহীন। সরকারের ১৫ বছরের ধারাবাহিক উন্নয়নে দেশের অবহেলিত মানুষের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা চলমান থাকলে এক সময়ের অবহেলিত বাগেরহাট আরও উন্নত হবে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।
বাগেরহাটে সরকারের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা হলে জানা গেছে, জেলায় নানা ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে। এরিমধ্যে বেশকিছু প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ শেষ হওয়ায় মানুষ তার সুফল ভোগ করছে। শিগগিরই আরও বেশ কিছু প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ শেষ হবে।

আশ্রায়ণ
জেলার কয়েক হাজার ভূমি ও গৃহহীন মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন। এই সরকার প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ প্রকল্পের অধীনে জেলার তিন হাজার ৬৬৪টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ গৃহ নির্মাণ করে দিয়েছে। পঞ্চম ও ষষ্ঠ প্রকল্পের অধীনে আরও ৯৩৯টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে।
স্বাস্থ্য
জেলায় চিকিৎসা সেবার ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে মানুষের দোরগোড়ায়। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হচ্ছে। বাগেরহাট ১০০ শয্যার সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হয়েছে। ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জন্য সাত তলা নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এই হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ এবং ২০ শয্যার আইসোলেশন নির্মাণ করা হয়েছে। সম্প্রতি উদ্বোধন করা হয়েছে ১০ শয্যার আইসিইউ। প্রতিদিন গড়ে এই হাসপাতালে দেড় হাজার মানুষ চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। জেলার সব উপজেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী সম্প্রসারিত ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। জেলা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বিনামূল্যে রোগীদের ওষুধ সরবারহ করা হয়। জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসা সেবার মান বাড়ানো হয়েছে।
খাদ্য
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় বাগেরহাটে ১৫ টাকা কেজি দরে জন প্রতি ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। প্রায় ৯৮ হাজার পরিবার বছরে পাঁচ মাস এই খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে। ভিডব্লিউডি কার্ডের মাধ্যমে ২১ হাজার ১৩০টি পরিবারকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ওএমএসের মাধ্যমে জেলায় প্রায় ২২ হাজার পরিবার পাঁচ কেজি করে চাল ও পাঁচ কেজি করে আটা স্বল্পমূল্যে ক্রয় করতে পারছেন। জেলায় ১৫ বছরে পাঁচ লাখ ৯৭ হাজার ৩২০ মেট্রিক টন চাল ও আটা নানাভাবে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ
বাগেরহাটের রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রি সুপার থার্মাল পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি লিমিটেড এরি মধ্যে দুটি ফেজে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। কয়লাভিত্তিক ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদন করা বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবারহ করা হচ্ছে। বাগেরহাট জেলার সর্বত্রই বিদ্যুৎ পৌছে দেওয়া হয়েছে। ১৫ বছরে বাগেরহাট জেলায় নতুন ৭৩৮৯.৬৭১ কিলোমিটার পল্লী বিদ্যুতের লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এই সময়ে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় চার লাখ বেড়েছে। বিদ্যুতের উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে ১২টি।

নৌ পথ
নদীমাতৃক বাংলাদেশে এক সময় যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল নৌপথ। বিভিন্ন সময় পলি মাটি জমে বাগেরহাটের অসংখ্য নদী-খাল এবং আন্তর্জাতিক প্রটোকলভুক্ত মোংলা ঘষিয়াখালী নৌচ্যানেল ভরাট হয়ে যায়। পানি শূন্যতার কারণে ঘষিয়াখালী চ্যানেলে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সরকার মোংলা ঘষিয়াখালী চ্যানেলকে পুনরায় খনন করে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করছে। এখন ওই চ্যানেল নিয়মিত খনন করে সচল রাখা হয়েছে। এই চ্যানেল দিয়ে প্রতিদিন বেশকিছু নৌযান পণ্য নিয়ে চলাচল করছে। এছাড়া জেলায় পলিমাটি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া ১৩টি নদী এবং ১৭২টি খাল পুনরায় খনন করে পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাঁধ, স্লুইস গেট ও ক্লোজার নির্মাণ করা হয়েছে। অন্যদিকে বাগেরহাটের শরণখোলায় বলেশ্বর নদী পাড়ে ৬৫ কিলোমিটার এবং বাগেরহাট সদরে ৩৫/৩ পোল্ডারে ৩৫ কিলোমিটার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।

সড়ক বিভাগ
বাগেরহাটে ১৫ বছরে ২৩১.০২৩ কিলোমিটার সড়ক প্রসস্তকরণসহ উন্নয়ন করা হয়েছে। এই সময়ে ৪৮টি সেতু এবং ১৬৩টি কাভার্ট নির্মাণ করা হয়। রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ করা হয় ২.৬৯২ কিলোমিটার। ৩৯ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ককে জাতীয় মহাসড়কে এবং ৫৩ কিলোমিটার জেলা মহাসড়ককে আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ
১৫ বছরে বাগেরহাট জেলায় এলজিইডি পল্লী সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৫৪২.৩২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১৯৮৬.৪৫ কিলোমিটার সড়ক মেরামত করা হয়। ৫৯৭০.০৫ মিটার ব্রিজ ও কালভাট নির্মাণ করা হয়েছে। ২৬২টি সামাজিক উন্নয়ন অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়। ৭২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণ কর হয়। রাস্তার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কাজের মাধ্যমে তিন হাজার দুস্থ নারীকে স্বাবলম্বী করে তোলা হয়েছে। নানাভাবে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করা হয়। এখনও অনেক প্রকল্প চলমান রয়েছে।
শিক্ষাপ্রকৌশল বিভাগ
বাগেরহাট শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের অধীনে জেলায় ১৫ বছরে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২৫০টি নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই সময়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫০০টি ভবন সংস্কার করা হয়। এসব ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের ফলে শিক্ষার্থীরা মনোররম পরিবেশে পড়াশোনা করছেন।
জনস্বাস্থ্য বিভাগ
বর্তমান সরকারের এই সময়ে জেলায় ২৫ হাজার ৬০৬টি রেইনওয়াটার হারভেস্টিম সিস্টেম এবং ১৫৫টি সোলার পিএসএফ নির্মাণ করা হয়। সুপেয় পানির জন্য জেলায় ১৯৫টি পুকুর পুনখনন করা হয়। ১০ হাজার ৩২০টি গভীর নরকুপ, ৭৫টি ন্যানো ফিলটার, ১০টি রিভার্স অসমোসিস স্থাপন করা হয়েছে। ৯টি লবণাক্ততা দূরিকরণ প্লান্ট, পৌরসভায় প্রতি ঘণ্টায় দুই লাখ লিটার পানি পরিশোধন ক্ষমতা সম্পর্ণ টিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। পৌরবাসীকে সুপেয় পানির আওতায় আনতে ৬৫ কিলোমিটার পানির পাইপ লাইন স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিন হাজার পরিবারকে গৃহসংযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নানা প্রকল্পের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মানুষের সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে জেলার ১০ লক্ষাধিক মানুষ সুপেয় পানি পাচ্ছে। এছাড়া নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জেলায় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়েছে। দরিদ্র মানুষ যাতে কাজ পায় এজন্য নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নিম্ম আয়ের মানুষের খাদ্য সহায়তা দিতে স্বল্পমূল্যে চাল ও আটা বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া টিসিবির মাধ্যমে চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন পণ্য কম মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ গৃহনির্মাণ করে দিয়েছে সরকার।

সুন্দরবন
বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনে একসময়ে জলদস্যু-বনদস্যুদের রাজত্ব ছিল। দস্যুরা জেলেদের ট্রলারে হামলা চালিয়ে জাল ও মাছ লুট করতো। এমনকি দস্যুরা জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণও আদায় করতো। মুক্তিপণ না পেলে জেলেদের হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দিতো তারা। সরকারের ঘোষণায় দস্যুরা আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। সেই সুন্দরবন এখন শান্ত, নেই দস্যুদের তৎপরতা। সুন্দরবনের বাঘসহ বনের সম্পদ রক্ষায় সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়ে বাস্তবায়ন করছে। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ফলে সুন্দরবনে বন্যপ্রাণির সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুন্দরবনে টেলিটকের মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা
এক সময়ে বাগেরহাটে নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি ও সর্বহারাদের দৌড়াত্ম ছিল চরমে। বিভিন্ন সময়ে জেলার বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রাণ হারায় নিষিদ্ধঘোষিত বাহিনীর সদস্যদের হাতে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে নিষিদ্ধঘোষিত ওই বাহিনীর দৌড়াত্ম শূন্যের কোঠায় নিয়ে এসেছে। জেলার আইনশৃঙ্খল পরিস্থিতি অনেক ভালো।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহা. খালিদ হোসেন জানান, বাগেরহাট জেলায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধারবাহিকভাবে নানা উন্নয়মূলক কর্মাকাণ্ড বাস্তবায়ন করছে সরকার। শহর থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জে সর্বত্রই উন্নয়ন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ,নিরাপত্তা, সড়ক, নৌ যোগাযোগ, রেলযোগাযোগ ও অবকাঠামোসহ সর্বক্ষেত্রেই বাগেরহাটে উন্নয়ন ঘটেছে। জেলার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ উন্নয়নের সফলতা পাচ্ছেন। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায বাগেরহাটের মানুষ তার সুফল পাচ্ছেন। মোংলা বন্দর দেশি-বিদেশী জাহাজের আগমন বেড়েছে। নানাভাবেই বাগেরহাটের মানুষের আর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে।
