সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার গাড়ির বহরে হামলার সাজা পাওয়া এক আসামি মারা গেছেন।
রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই ব্যক্তির নাম আব্দুস সাত্তার। তিনি কলারোয়া উপজেলার কয়লা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। সাত্তার স্থানীয় বিএনপির নেতা ছিলেন।
সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের সুপারইন টেনডেন্ট আবুল বাশার জানান, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সাত্তার বুকে যন্ত্রনা অনুভব করলে তাকে দ্রুত সদর হাসপাতালে ভর্তির জন্য পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাইফুল ইসলাম জানান, রাতে আব্দুস সাত্তারকে জরুরি বিভাগে আনা হলে পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মহিদুল ইসলাম জানান, সোমবার ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
ওই হামলার ঘটনায় ২০২১ সালে ২৭ জানুয়ারি সাজা পান সাত্তার। তাকে তিন বছর ৬ মাসের সাজা দেয় আদালত।
২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে দেখতে যান শেখ হাসিনা। সেখান থেকে যশোরে ফেরার পথে কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা একটি যাত্রীবাহী বাস রাস্তার ওপরে আড় করে দিয়ে তার গাড়ি বহরে হামলা চালায়। পাশাপাশি করা হয় গুলিও।
এ ঘটনায় শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা সেদিন আহত হন।
ওই ঘটনায় কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন কলারোয়া থানায় মামলা করতে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
তখন সাতক্ষীরার আদালতে নালিশি অভিযোগ করেন কলারোয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার মোসলেম উদ্দিন। আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করতে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেয়।
ওই মামলা খারিজ হয়ে যাওয়ার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করা হয়।
তদন্ত করে পুলিশ বিএনপির সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।
হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনের পৃথক ধারায় দেওয়া তিনটি অভিযোগপত্রের মধ্যে হত্যাচেষ্টা মামলার রায় হয় ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।
তাতে তালা-কলারোয়ার বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৫০ জন নেতাকর্মীকে চার থেকে ১০ বছর মেয়াদে সাজা দেন সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম হুমায়ুন কবির।
আর অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের দুটি মামলায় গত বছরের ১৪ জুন অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়। এর চারদিন পর ১৭ জুন বিচারক আসামিদের উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়।
আগেও মেরেছে, এবার পিটিয়ে মেরেই ফেললো ভাই-ভাতিজা