দেশে ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিত করাসহ সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব রক্ষায় আট দফার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃত্বে ৪০ সংগঠনের সংখ্যালঘু ঐক্য মোর্চা।
একই সঙ্গে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্তর বিরুদ্ধে করা হত্যা মামলা এবং ইসকনের চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীসহ যাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

আট দফা দাবিগুলো হলো-
- সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন
- জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন
- অর্পিতসম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের যথাযথ প্রয়োগে যাবতীয় আমলাতান্ত্রিক বাধা অপসারণ করে ট্রাইব্যুনালের রায়ের আলোকে জমির মালিকানা ও দখলভুক্তভোগীদের বরাবরে অনতিবিলম্বে প্রত্যর্পণ
- জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে সরকারে, সংসদে, জনপ্রতিনিধিত্বশীল সকল সংস্থায় অংশীদারিত্ব ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণ
- দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণে আইন প্রণয়ন
- বৈষম্যবিলোপ আইন প্রণয়ন
- পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন এবং তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইনের যথাযথভাবে কার্যকরীকরণ ও
- হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গোৎসবে অষ্টমি থেকে দশমি (তিন দিন), বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রবারণা পূর্ণিমায় এক দিন ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ইস্টার সানডে'তে একদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা।
কুষ্টিয়া
সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব রক্ষার আট দফা বাস্তবায়নের দাবিতে কুষ্টিয়ায় সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও পূজা উদযাপন পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখাসহ সংখ্যালঘু ঐক্য মোর্চা।
শনিবার বিকেলে শহরের গোপীনাথ জিউর মন্দিরে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি অ্যাড. সুধীর কুমার শর্মার সভাপতিত্বে সমাবেশ শুরু হয়।
পূজা উদযাপন পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাড জয়দেব বিশ্বাসের সঞ্চালনায় এতে সংগঠনের নেতারা অবিলম্বে আট দফা দাবি মেনে নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুসের প্রতি আহবান জানান। পরে শহরে একটি বিক্ষোভ শহর প্রদক্ষিণ করে।

কুমিল্লা
সারাদেশের মতো কুমিল্লায় সনাতনীদের আট দফা বাস্তবায়নের দাবিতে গণসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার কুমিল্লা নগরের কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে এ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ৪৭’ এর পর থেকে আমরা নির্যাতনের শিকার। সরকার আসে, সরকার যায়, কিন্তু আমাদের ভবিতব্যই যেন নির্যাতনের শিকার হওয়া। বিগত সরকারের পতনের পর আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। অথচ এই বিপ্লবে আমাদের অংশগ্রহণ কোনো অংশে কম নয়।
এসময় আট দফা দাবি না মানলে ঢাকা অবরোধের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বক্তারা বলেন, আমাদের দাবিগুলো মেনে নিন। রানা দাশগুপ্ত ও চিন্ময় প্রভুসহ যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তা দ্রুত প্রত্যাহার করুন।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি চন্দন কুমার রায়, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তাপস কুমার বকসী, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্মল পাল ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র সরকার, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা মহানগর সাধারণ সম্পাদক অচিন্ত্য দাস টিটু, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান যুব ঐক্য পরিষদ সাবেক মহানগর আহ্বায়ক শ্যামল কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ মহানগর সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দে, ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক উল্লাস দে শুভন, হিন্দু মহাজোট কুমিল্লা জেলা আহ্বায়ক অসীম বর্দ্ধন অপুসহ বিভিন্ন উপজেলা হতে আগত নেতৃবৃন্দ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ
সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়, সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলাসহ আট দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গণসমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকালে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা ও সংখ্যালঘু সংগঠনগুলোর উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
হুজরাপুরের শিব-কালি মন্দিরের সামনে থেকে সনাতন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে একটি মিছিল শহর প্রদক্ষিণ মেষে সেন্টু মার্কেটের সামনে সমাবেশ করে।
হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সম্পাদক দিলিপ রায়ের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, উত্তরবঙ্গ বৈষ্ণব সংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীল শ্যাম কিশোর দাস, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ডাবলু কুমার ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় চ্যাটার্জি, যুগ্ম সম্পাদক পলাশ দাস, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সভাপতি অর্জুন চৌধুরী, সম্পাদক সঞ্জিব সাহা, সদস্য কৌশিক দাস প্রমুখ।
এসময় বক্তারা বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে বিভিন্ন সময়ে নানা নির্যাতন ও হামলার শিকার হতে হয়েছে। এই দেশেই আমাদের জন্ম। তাহলে আমাদের ওপর এতো অন্যায় হবে কেন। সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব রক্ষায় আট দফা দাবি বাস্তবায়ন করা জরুরি।
এছাড়া রানা দাসগুপ্তসহ বিভিন্ন জেলার অন্য নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

জামালপুর
জামালপুরে সংখালঘুদের আট দফা দাবি বাস্তবায়ন, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার তদন্ত, রানা দাশগুপ্তসহ বিভিন্ন জেলায় নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানঐক্য পরিষদ।
শনিবার বিকেলের শহরের দয়াময়ী চত্বরে এক মানববন্ধনে এসব দাবি জানানো হয়।
ঘণ্টা ব্যাপী অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ সংগঠনটির জামালপুর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কৃষিবিদ লক্ষ্মী কান্ত পণ্ডিত, সাধারণ সম্পাদক রমেন বণিক, শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক বিপুল চন্দ্র কাঞ্জিলাল, শ্রী শ্রী দয়াময়ী মন্দির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সিদ্ধার্থ শংকর রায়।
সমাবেশে বক্তারা সংখালঘুদের আট দফা দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সিলেট
সিলেটে সংখ্যালঘুদের আট দফা দাবি বাস্তবায়ন, জাতিসংঘের তত্ত্ববাধানে সহিংসতার তদন্ত, রানা দাশগুপ্তসহ বিভিন্ন জেলায় নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতিবাদ সভা ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও সংখ্যালঘু সংগঠনগুলোর ঐক্য মোর্চা কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার আয়োজনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সিলেট মহানগরের সভাপতি অ্যাড. মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দেবের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মলয় পুরকায়স্থ।
ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিতসহ আট দফা বাস্তবায়নের দাবি