শিক্ষাব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের জন্য কেবল মন্ত্রী পরিবর্তনের চেয়ে শিক্ষকদের ক্ষমতায়ন ও তাদের যথাযথ মূল্যায়নকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শিক্ষকদের উন্নয়ন ছাড়া কেবল মন্ত্রী দিয়ে শিক্ষার উন্নয়ন সম্ভব নয়। যারা মানুষ গড়ার কারিগর, সেই শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন ও ক্ষমতায়ন প্রয়োজন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে যশোর পিটিআই মিলনায়তনে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেশের উন্নয়নের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অন্য দশটি মন্ত্রণালয়ের চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা। আমি জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে চাই এবং শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে একটি আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে চাই।
এ সময় তিনি সরকারি ও বিরোধী দলসহ দেশের প্রতিটি সংসদ সদস্যকে প্রতিদিন শিক্ষা নিয়ে কথা বলার এবং সংসদে শিক্ষা বিষয়ক নোটিশ দেওয়ার আহবান জানান।
বিগত সরকারের আমলে নকল প্রবণতার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালের পর সরকার কঠোরভাবে নকল নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে। তবে করোনা-পরবর্তী সময়ে নকলের ধরন পাল্টে ‘ডিজিটাল জালিয়াতি’ শুরু হয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন। এটি প্রতিরোধে শিক্ষক ও প্রশাসনকে আরও সজাগ হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা আনতে ১৯৮০ সালের শিক্ষা আইন সংশোধনের ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী জানান, এখন থেকে পরীক্ষকদের মূল্যায়িত খাতা থেকে ‘র্যান্ডম স্যাম্পলিং’ বা নমুনা সংগ্রহ করে পুনরায় যাচাই করা হবে। এছাড়া নতুন ও দক্ষ পরীক্ষক তৈরিতে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি বিশেষ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে সঙ্গে একটি স্থায়ী আইডি নম্বর দেওয়া হবে। এই একটি আইডি দিয়েই শিক্ষা, পুলিশি ভেরিফিকেশন, ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ মৃত্যু পর্যন্ত সব সেবা নিশ্চিত হবে, যা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় বিপ্লব ঘটাবে।
শিক্ষকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহবান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকতা দিয়ে ছদকায়ে জারিয়া অর্জন সম্ভব। কিন্তু অনেক শিক্ষক নিজের স্কুলে নিজের সন্তানদের পড়ান না। তিনি শিক্ষকদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা রাখার এবং শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার অনুরোধ করেন।
যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোসাম্মাৎ আসমা খাতুনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ খুলনা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
