ভিনদেশী টিউলিপ ফুল বর্ণিল আভা ছড়াচ্ছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। তৃতীয়বারের মতো উপজেলার দর্জিপাড়া গ্রামে স্বল্প পরিসরে চাষ হয়েছে এই ফুলের। নানা রঙের এই ফুল মুগ্ধ করছে দর্শনার্থীদের। তবে বাগানে প্রবেশের ফি বেশি নেয়ার অভিযোগ তাদের।
বাগান জুড়ে সারি সারি গাছে বর্ণিল শোভা ছড়াচ্ছে লাল, গোলাপি, সাদা, হলুদ রংয়ের টিউলিপ। সূর্যের আলো ও তাপ থেকে রক্ষায় দেয়া হয়েছে বিশেষ ছাউনি। শীতপ্রধান দেশের এই ফুল শোভা ছড়াচ্ছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার দর্জিপাড়া গ্রামে।
২০২২ সালে ৪০ শতক জমিতে টিউলিপ চাষ শুরু করেন ২০ জন নারী। তাদের হাতের ছোঁয়ায় এখন ২৫ হাজার গাছে ফুটেছে ১৯ প্রজাতির টিউলিপ।
দর্শনার্থী এক নারী বলেন, ভিনদেশী এই ফুল দেখতে অনেক সুন্দর। বর্ণিল এই ফুলের সঙ্গে ছবিও খুব ভালো উঠছে।
দর্জিপাড়ার পরিচয় এখন টিউলিপের গ্রাম। ভিনদেশি এই ফুলের সৌন্দর্য দেখতে দূর থেকেও আসেন ফুলপ্রেমীরা। ছবি তোলার পাশাপাশি কিনে নিয়ে যান ফুল। তবে বাগানের প্রবেশ মূল্য নিয়ে অভিযোগ অনেকের।
এক দর্শানার্থী বলেন, এখানে ঢুকতে ৫০ টাকা প্রবেশ ফি। এটা আমরা মানতে পারছি না। প্রবেশ মূল্য বেশি হওয়ার কারণে কিছু লোক সামনে থেকে ঘুরে চলে গেলো।
একটি প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় চাষিদের টিউলিপ চাষে উদ্বুদ্ধ করছে ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন বা ইএসডিও নামের একটি বেসরকারি সংস্থা। এই প্রকল্পটিতে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। চাষিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা, তাদের পরিবারে আয় বাড়ানো, বিদেশ থেকে টিউলিপ ফুল আমদানি কমানো, পঞ্চগড় জেলাকে পর্যটন উপযোগী জেলা হিসেবে গড়ে তোলাসহ ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে উন্নত জাতের টিউলিপ ফুল উৎপাদনে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চাষিদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান ইএসডিও।
বছরের প্রায় চার মাস পঞ্চগড়ে শীতার্ত আবহাওয়া থাকায় এখানে বাণিজ্যিকভাবে টিউলিপ চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
শীতপ্রধান দেশে টিউলিপ ফুলটি হরহামেশাই দেখা যায়। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশে এটি তেমন একটা দেখা যায় না। টিউলিপ ফুল চাষের ক্ষেত্রে দিনের বেলা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহনশীল ধরা হয়। এর চেয়ে বেশি তাপমাত্রা হলে প্রাপ্তবয়সের আগে মানসম্মত ফুল নাও ফুটতে পারে। স্বাভাবিকভাবে রোপণের ১৮ থেকে ২০ দিনের মধ্যে কলি আসতে শুরু করে এবং ২৫ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত টিউলিপ ফুল স্থায়ী হয়। অনেক সময় আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে এর ব্যতিক্রমও হতে পারে।
তেঁতুলিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে রাব্বি বলেন, টিউলিপের বাল্বগুলো আনা হয় নেদারল্যান্ডস থেকে। ইউএসডিও নিজস্ব প্রকল্পের মাধ্যমে নিয়ে আসে। এভানে সারাদেশ থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন। তাদের নিরাপত্তার জন্য উপজেলা প্রশাসন, টুরিস্ট পুলিশ এবং মডেল থানা সার্বক্ষণিক তৎপর আছে।
ইউরোপ-আমেরিকার মতো প্রতিবেশী ভারতের শীতপ্রধান কাশ্মীর বা সিকিমেও চাষ হয় টিউলিপ ফুল। সম্প্রতি বাংলাদেশেও এই ফুল চাষ শুরু করেছেন কেউ কেউ।
