হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে শহরের কোর্ট মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম মোস্তাক আহমেদ। বিদ্যুৎ প্রজেক্টের শ্রমিক মোস্তাকের বাড়ি সিলেটের টুকের বাজারে।
তার সহকর্মী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জুতা কিনতে এসে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে তিনি নিহত হন। মোস্তাকের ডান বাহুতে জখম দেখা গেছে।
হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মঈন উদ্দীন চৌধুরী বলেন, বিকেলে পাঁচটা ২৫ মিনিটের দিকে অজ্ঞাত আহত এক ব্যক্তি আনা হয়। ওয়ার্ডে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মোস্তাক গুলিতে নিহত হয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে চিকিৎসক বলেন, তার ডান বাহুতে জখম ছিল। তবে ময়নাতদন্তের পর বলা যাবে ওই জখম কীভাবে হয়েছে।

এই মৃত্যুর ব্যাপারে তাৎক্ষণিক জানতে চাইলে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
এর আগে জুমার নামাজের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে হবিগঞ্জে শহরের বোর্ড মসজিদের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় ছাত্রদলসহ অন্য দলের নেতাকর্মীরা। অপরদিকে পূর্ব টাউন হল এলাকায় অবস্থান নেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে টাউন হল এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাধে। এক পর্যায়ে সেখানে থাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আগুন দেন বিক্ষোভকারীরা। এছাড়া তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু জাহিরের বাসায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এসময় পুড়িয়ে দেওয়া হয় ১৩টি মোটরসাইকেল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
সংঘর্ষ শহরের তিনকোণা পুকুরপাড়, স্টাফ কোয়ার্টার, পুরাতন হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে, চলে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত। বর্তমানে শহর জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
