চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ১৩ দিনের অবস্থান ধর্মঘটের পর অনশনে বসেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কর্মচারীরা। তাদের দাবি, প্রশাসন থেকে কোনো আশ্বাস না পেয়ে এই কর্মসূচি পালন করছেন।
গত সোমবার (১৭ জুলাই) থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে চাকরি স্থায়ী দাবিতে ধর্মঘট পালন করেছেন দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মরত বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কর্মচারীরা।
তাদের অভিযোগ, অনির্দিষ্টকালের জন্য ডাকা এই অবস্থান ধর্মঘট ১৩ দিন গড়ালেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি।
আন্দোলনরত একাধিক কর্মচারী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৪২ জন অস্থায়ী কর্মচারী আছেন। যাদের দৈনিক ৪০০ টাকা হারে মজুরি দেওয়া হয়। এতে তাদের সংসার চলছে না।
তারা জানান, চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ২০২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তিন বার প্রশাসনকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশেদা আখতার অস্থায়ী কর্মচারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরি স্থায়ীকরণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। এর আগেও চলতি বছরের দুই জানুয়ারি চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে অনশনে বসা হয়। তখন প্রশাসন ছয় মাসের মধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিতে বিভিন্ন হল, বিভাগ ও অফিসগুলোয় নিয়োগের মৌখিক আশ্বাস দেন। তবে ওই আশ্বাস এখনও কার্যকর না হওয়ায় আবারও তারা অনশনে বসেছেন।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার আবু হাসান বলেন, চাকরি স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত ইউজিসি থেকে নেওয়া হয়। ইউজিসির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের আলোচনা হয়েছে। ওই আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের মধ্যে থেকে ধাপে ধাপে চাকরি স্থায়ী করার জন্য অনুরোধ করেছে। তবে ইউজিসির চেয়ারম্যান কয়েকটি পদ দেবে বলে আশ্বস্ত করেছেন। তবে চেয়ারম্যান ইউজিসির বাকি সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।
একাত্তর/এসি
