পোলিং এজেন্টদের কাজে বাঁধা, নারী হলে পুরুষ প্রার্থীদের প্রবেশ, ভোটার লিস্টে ছবি না থাকাসহ নির্বাচন ঘিরে নানা অভিযোগ তুলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছে ছাত্রদলসহ পাঁচটি প্যানেল। পুনর্নির্বাচনের দাবিও জানিয়েছে তারা।
এ নিয়ে জাকসু'র সাতটি প্যানেলের মধ্যে বাকছাস ও ছাত্রশিবির ছাড়া বাকি সবগুলো প্যানেল নিজেদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেয় বাম সমর্থিত সম্প্রীতির ঐক্য, সংশপ্তক পর্ষদ, স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট প্যানেল। সেইসঙ্গে পাঁচজনের বেশি স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকসু নির্বাচন বয়কট করেছেন।
জাকসুতে অসঙ্গতির দায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছুই প্রশাসনের- এমনটা- দাবি করেছেন নির্বাচন বয়কটকারীরা। টেমপোরারি কালি ব্যবহার, নারী হলে পুরুষ প্রার্থীদের প্রবেশ, নির্বাচনের সময় শিবিরের লিফলেট বিতরণের করাসহ নানা অভিযোগ আনেন তারা। তারা বলেন, নানান অভিযোগের কারণে এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ।
এর আগে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে মওলানা ভাসানী হলের সামনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে জাকসু ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সদস্যরা। তারা নির্বাচনে অনিয়ম, জালিয়াতি, জামায়াত নেতার প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যালট পেপার ও স্ক্যানিং মেশিন কেনার অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী বৈশাখী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।
তানজিলা হোসাইন বৈশাখী অভিযোগ করে বলেন, তাজউদ্দীন হলে আমাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তালিকায় ভোটারদের ছবি নেই, ২১নং হলে মব সৃষ্টি করা হয়েছে। জাহানারা ইমাম হলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর গায়ে হাত তোলা হয়েছে।
এই নির্বাচন নিরপেক্ষতা হারিয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, জামায়াত নেতার সরবরাহ করা ওএমআর মেশিন আমরা চাইনি। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকৃত ব্যালটেই ভোট হচ্ছে।
বৈশাখী অভিযোগ করে বলেন, মেয়েদের হলে একই মেয়ে বারবার ভোট দিতে গেছেন। শিবিরপন্থী সাংবাদিকরা মিস বিহ্যাভ করেছেন ছাত্রদলের প্রার্থীদের সঙ্গে, সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে না। এটি কারচুপি ও প্রহসনের নির্বাচন। তাই নির্বাচন বর্জন করতে বাধ্য হচ্ছি। নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের রায়ের প্রতিফলন হচ্ছে না।
দীর্ঘ ৩৩ বছর পর আজ অনুষ্ঠিত হলো জাকসু নির্বাচন। সকাল ৯টা থেকে একযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি আবাসিক হলে ২২৪টি বুথে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
ভোটগ্রহণ শেষে গণনা করার জন্য ব্যালট বাক্স নেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে। সেখান থেকেই ঘোষণা করা হবে নির্বাচনের ফলাফল।
জাকসু নির্বাচন বর্জন করলো ছাত্রদল
কারচুপির অভিযোগের মধ্য দিয়ে শেষ হলো জাকসুর ভোটগ্রহণ, গণনা শুরু