বর্তমান সময়ে কলকতার অন্যতম ব্যস্ত অভিনেত্রী কৌশানী মুখোপাধ্যায় নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করছেন। চলতি মাসে তাঁর অভিনীত সিরিজ ‘আদালত ও একটি মেয়ে’ মুক্তি পেতে চলেছে। গত এক বছরে তথাকথিত বাণিজ্যিক ছবির গণ্ডি পেরিয়ে একের পর এক চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করে তিনি সমালোচক ও দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের কেরিয়ারের চড়াই-উতরাই এবং টলিউড ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের সমীকরণ নিয়ে সোজাসাপ্টা কথা বলেছেন তিনি।

সফলতার সংজ্ঞায় পরিবর্তন: কৌশানীর মতে, বর্তমানে তিনি ভীষণ ব্যস্ত এবং মানসিক শান্তিতে রয়েছেন। তাঁর কথায়, এখন আর বছরে পাঁচটা ছবির হোর্ডিংয়ে মুখ দেখানোর প্রয়োজন তিনি বোধ করেন না। বরং বছরে দুটো কাজ করলেও তা যেন দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে, সেটাই তাঁর মূল লক্ষ্য। কাজ পাওয়ার পরিশ্রম এবং চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করাকেই তিনি সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করেন।

ব্যক্তিগত সংকট ও একাকীত্ব: কেরিয়ারের একটি অন্ধকার সময়ের কথা স্মরণ করে কৌশানী জানান, একসময় তাঁর কাজের গ্রাফ একেবারে নিম্নমুখী হয়ে পড়েছিল। ঠিক সেই কঠিন সময়েই তিনি তাঁর মাকে হারান। ব্যক্তিগত ও পেশাগত এই জোড়া ধাক্কা তাঁর মনের ভয় দূর করে দিয়েছে। অভিনেত্রী অকপটে স্বীকার করেন, এমন দিনও গিয়েছে যখন ভিড়ের মধ্যে সবাই তাঁর সঙ্গী বনি সেনগুপ্তের সঙ্গে সেলফি তুলতে চাইতেন, কিন্তু তাঁকে কেউ লক্ষ্যই করত না। সেই সময় নিজের অস্তিত্ব ও পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তিনি নিজেকে মোটিভেট করতে ছাড়েননি।

সম্পর্ক ও পেশাদারিত্বের ব্যালেন্স: বনি সেনগুপ্তের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের রসায়ন নিয়ে কৌশানী জানান, অতীতের ব্যর্থ সম্পর্ক থেকে শিক্ষা নিয়েই তিনি বর্তমান সম্পর্ককে সামলে চলছেন। কাজ এবং ব্যক্তিগত জীবনকে আলাদা রাখতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি কখনও লজ্জা পান না এবং প্রয়োজনে সোজাসুজি কাজ চাইতে পারেন। এমনকি মজার ছলে বনিকেও কখনও কখনও অভিযোগ করেছেন তাঁকে কেন কোথাও রেকমেন্ড করা হয় না, যদিও তিনি মনে করেন যোগ্যতা দিয়েই কাজ আদায় করে নেওয়া উচিত।

ইন্ডাস্ট্রি ও কাস্টিং কাউচ নিয়ে মতামত: টলিউড বা বিনোদন জগতকে প্রায়ই 'সহজ লক্ষ্য' বানানো হয় বলে মনে করেন কৌশানী। কাজের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনৈতিক প্রস্তাব বা 'গিভ অ্যান্ড টেক' পলিসি প্রসঙ্গে তিনি জানান, তাঁর জানা মতে যা কিছু ঘটে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের সম্মতিতেই হয়। কাউকে জোর করা হয়েছে এমন কোনো অভিজ্ঞতা তাঁর অন্তত নেই।

প্রোডাকশন হাউজ ও স্বজনপোষণ: বর্তমানে টলিউডের অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীর নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা খোলা নিয়ে কৌশানী বেশ বাস্তববাদী। তাঁর মতে, উপযুক্ত সুযোগ না পাওয়া বা অবহেলিত হওয়ার বোধ থেকেই অনেকে নিজের মাটি শক্ত করতে প্রযোজনা সংস্থা খুলছেন। ইন্ডাস্ট্রির একটি নির্দিষ্ট গণ্ডি বা 'সার্কেল'-এর বাইরে সুযোগ পাওয়া কঠিন বলেই অনেকে নিজের কাছের মানুষ বা সঙ্গীকে নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন, যা নিয়ে খুব বেশি অভিযোগ করার কিছু নেই বলে তিনি মনে করেন।
জীবনের সব চড়াই-উতরাই পেরিয়ে কৌশানী এখন অনেক বেশি পরিণত। সাফল্য বা ব্যর্থতাকে তিনি এখন আর ধ্রুব সত্য বলে মনে করেন না, বরং বর্তমানের ব্যস্ততাকে উপভোগ করতেই তিনি বেশি আগ্রহী।
