জনপ্রিয় টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে এবার আইনি মোড় নিল। গত সপ্তাহে ওড়িশার তালসারি সৈকতে শ্যুটিং চলাকালীন ডুবে গিয়ে অভিনেতার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্ত্রী, অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার ওড়িশা পুলিশের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। শুক্রবার রাতে বালেশ্বর জেলার তালসারি মেরিন থানায় এই এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়।
গত ২৯ মার্চ ওড়িশার তালসারি সৈকতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ নামক একটি বাংলা ধারাবাহিকের শ্যুটিং চলার সময়ন সমুদ্রে পড়ে যান ৪৩ বছর বয়সী এই অভিনেতা। সহকর্মীরা তাঁকে দ্রুত দিঘার এক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

শনিবার রাতে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্বামীর মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানের দাবি জানিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশ জানান, এই ঘটনায় কোনো ‘ক্রিমিনাল কনস্পিরেসি’ বা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। সব দিক বিবেচনা করে এবং প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় ধারাবাহিকের প্রযোজকদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে ‘পশ্চিমবঙ্গ মোশন পিকচার আর্টিস্ট ফোরাম’। শনিবার কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানায় প্রযোজকদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। কলকাতা পুলিশ সেটিকে ‘জিরো এফআইআর’ হিসেবে গণ্য করেছে।

ফোরামের অভিযোগ, শ্যুটিংয়ের সময় যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না রেখে অত্যন্ত অবহেলার সঙ্গে কাজ চালানো হচ্ছিল, যা একজন মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে। ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে গত ১ এপ্রিল প্রোডাকশন হাউসের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন রাহুল। ২০০৮ সালে রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবিতে প্রিয়াঙ্কা সরকারের বিপরীতে অভিনয় করে তিনি রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান। এরপর ‘জ্যাকপট’, ‘লাভ সার্কাস’, ‘শোন মন বলি তোমায়’-এর মতো একাধিক প্রশংসিত সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন।

ছোটপর্দায় ‘গীতা এলএলবি’, ‘হরগৌরী পাইস হোটেল’, ‘দেশের মাটি’ এবং ‘তুমি আসবে বলে’-এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে গেঁথে থাকবে। অভিনয়ের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর শুরু করা একটি পডকাস্টও বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল।
প্রিয় অভিনেতার এমন মর্মান্তিক প্রয়াণ এবং তার পরবর্তী আইনি লড়াই টলিউড মহলে শোকের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ওড়িশা ও কলকাতা- উভয় রাজ্যের পুলিশই এখন এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা সত্য উদঘাটনে তৎপর।
