পৃথিবীতে আলো কমে বাড়ছে অন্ধকার, হুমকিতে জলবায়ু!

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:১১ পিএম

মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে, আকাশে আলো প্রতিফলিত করার মতো মেঘের ঘনত্ব কমছে, আর ধীরে ধীরে উন্মুক্ত হয়ে পড়ছে মহাসাগর ও স্থলভাগের অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশ। আপাতদৃষ্টিতে এই পরিবর্তনগুলোকে আলাদা বা ছোট ঘটনা মনে হলেও, এগুলো জলবায়ুর ওপর ফেলছে ভয়াবহ প্রভাব। এসবের সম্মিলিত ফলাফলে মহাশূন্যে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করার ক্ষমতা দিন দিন হারাচ্ছে পৃথিবী। ফলে আমাদের গ্রহটি অতিরিক্ত তাপ ধরে রাখছে, যা বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটকে আরও জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলছে।

আবহাওয়া ও জলবায়ু বিজ্ঞানীরা এই অবস্থাকে বলেন ‘অ্যালবেডো’ হিসাবে। ‘অ্যালবেডো’ হলো কোনো পৃষ্ঠের আলো প্রতিফলিত করার ক্ষমতার গাণিতিক পরিমাপ। যেমন- নতুন তুষার বা সাদা বরফ সূর্যের প্রায় ৯০ শতাংশ আলো মহাশূন্যে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু সমুদ্রের অন্ধকার জলভাগ বা অনাবৃত খালি জমি ৯০০ শতাংশের বেশি আলো নিজেই শোষণ করে নেয় এবং মাত্র ১০ শতাংশের কম আলো প্রতিফলিত করে।


যখন উষ্ণতার কারণে সাদা বরফ গলতে শুরু করে, তখন তার নিচে থাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন জলরাশি বা মাটি উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। এটি তৈরি করে এক মারাত্মক ও বিষাক্ত চক্র: বরফ গলে অন্ধকার পৃষ্ঠ বেরিয়ে আসে, যা বেশি তাপ শোষণ করে আশেপাশের এলাকাকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে এবং ফলে বরফ গলার গতি আরও ত্বরান্বিত হয়। নাসার স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০০০ সাল থেকে পৃথিবীর অ্যালবেডো ক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে কমছে। বিজ্ঞানীদের মতে, শুধু এই অ্যালবেডো কমার কারণেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায় ০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে।

পৃথিবী তার প্রাকৃতিক শীতলীকরণ ব্যবস্থা হারিয়ে ফেলার কারণে পরিবেশ ও মানবজীবনে নানামুখী প্রভাব পড়ছে:

  • মানবস্বাস্থ্যের ওপর ঝুঁকি: তীব্র তাপদাহ সরাসরি মানুষের শরীর ও শারীরিক কর্মক্ষমতার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে। বয়স্ক ও শিশুরা এতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
  • খাদ্য নিরাপত্তা সংকট: তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে শস্যের ফলন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং গবাদিপশুর স্বাস্থ্য নষ্ট হচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট ডেকে আনছে।
  • সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের বিনাশ: মহাসাগরগুলো অতিরিক্ত তাপ শোষণ করায় প্রবাল ক্ষয় (Coral Bleaching) হচ্ছে এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
  • বন্যপ্রাণীর বাসস্থান বিলুপ্তি: জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে বহু বিরল প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতি চিরতরে বিলুপ্তির পথে ধাবিত হচ্ছে।
  • দাবানল ও শুষ্কতা: উচ্চ তাপমাত্রার কারণে বনভূমি শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে, যা ঘনঘন দাবানলের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
  • পানীয় জলের চরম সংকট: মেরু অঞ্চলের বাইরেও বিভিন্ন পর্বতের হিমবাহ বা গ্লেসিয়ার দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায় কোটি কোটি মানুষের সুপেয় জলের প্রধান উৎস আজ হুমকির মুখে।


শহরাঞ্চলে সাদা বা হালকা রঙের ছাদ এবং রাস্তা তৈরি করে সাময়িকভাবে স্থানভিত্তিক কিছু স্বস্তি পাওয়া সম্ভব। এমনকি বিজ্ঞানীরা কৃত্রিমভাবে মেঘ তৈরি কিংবা বায়ুমণ্ডলে অ্যারোসল স্প্রে করে পৃথিবীর প্রতিফলন ক্ষমতা বাড়াতে 'জিও-ইঞ্জিনিয়ারিং' নিয়ে গবেষণা করছেন। তবে এসব প্রযুক্তি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং মূল সংকটের স্থায়ী সমাধান নয়।

জলবায়ু সংকট কেবল তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয় নয়, এটি প্রতিটি জীবসত্তার টিকে থাকার লড়াই। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন দ্রুত ও ব্যাপকভাবে কমানোই পৃথিবীর অ্যালবেডো রক্ষা করা এবং এই আত্মঘাতী উষ্ণায়ন চক্র থামানোর একমাত্র দীর্ঘমেয়াদী পথ।

তথ্যসূত্র: দ্য সায়েন্স

একাত্তর/এআরএস
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে আল্পস পর্বতমালার হাজার বছরের পুরোনো হিমবাহগুলো দ্রুত গলে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। এই বিপর্যয় রুখতে প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে এক ব্যতিক্রমী ও পরিবেশবান্ধব পরীক্ষা শুরু করেছেন...
তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকা আবহাওয়া চক্র 'এল নিনো' এবং মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের দ্বৈত প্রভাবে বিশ্বের মহাসাগরগুলোর তাপমাত্রা ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ডে পৌঁছেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু...
আটলান্টিক মহাসাগরে হ্যারিকেন বা ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম সবেমাত্র শুরু হয়েছে, যা আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এবং সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে এই ঝড়ের প্রকোপ সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করবে। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এই...
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শুধু প্রাকৃতিক দুযোর্গই বাড়ছে না; মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাবও বাড়ছে।
দেশে হাম ও হামের উপসর্গের প্রাদুর্ভাব থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে সারাদেশে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে নতুন করে আরও এক হাজার ৩৫ জন এই...
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান বাড়ানো, ব্যাগেজ চুরি বা ক্ষতি রোধ করা এবং লাগেজ হ্যান্ডলিং প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এক যুগান্তকারী প্রযুক্তিভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ...
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসে আগুন লেগেছে। নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বালুবাহী ট্রাক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক পরিবারের চার সদস্যসহ মোট পাঁচজন মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের শিবেরডাঙি...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর