গুপ্তচরবৃত্তি ও কম্পিউটার হ্যাক করার অভিযোগে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া যেতে পারে বলে রায় দিয়েছে যুক্তরাজ্যের আদালত।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ব্রিটিশ আদালতের এক রায়ে বলা হয়, উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না, কারণ তার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে মার্কিন সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের আপিলের শুনানি শেষে শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) ব্রিটিশ আদালত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নতুন করে এ রায় ঘোষণা করে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, প্রত্যর্পণ মামলার সর্বশেষ ধাপে মার্কিন সরকার জিতেছে।
ব্রিটিশ হাই কোর্টের বিচারক টিমোথি হলরোয়েড বলেছেন, ওয়াশিংটনের তরফ থেকে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিতে বলা হয়েছে, অ্যাসাঞ্জকে কলোরাডোয় তথাকথিত হাই সিকিউরিটি জেলে পাঠানো হবে না। অস্ট্রেলিয়ায় তার সাজার রায় হওয়ায় সাজা খাটার জন্য তাকে সেখানেও পাঠানো হবে না।
যদিও অ্যাসাঞ্জের বাগদত্তা স্টেলা মরিস এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।
স্টেলা মরিস আরও জানান, জুলিয়ানকে যে দেশ হত্যার পরিকল্পনা করেছিল, সেখানে তাকে হস্তান্তর করা কিভাবে সম্ভব। আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবো।
২০১৬ সালে সিআইএর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি তথ্য ফাঁস করে উইকিলিকস। 'ভল্ট ৭' নামের ওসব নথিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস করা হয়। এসব অভিযোগে গত আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে লন্ডনের বেলমার্শ কারাগারে রয়েছেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা অ্যাসাঞ্জ।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগে শিগগিরই চুক্তি সই করবে মালয়েশিয়া
এর আগে ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। পরে তাকে আশ্রয় দিতে না চাইলে ২০১৯ সালের এপ্রিলে তাকে গ্রেফতার করে ব্রিটিশ পুলিশ। তিনি এখন লন্ডনের কঠোর নিরাপত্তায় ঘেরা বেলমার্শ কারাগারে বন্দী।
অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত ৫০ বছর বয়সী জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনীর বিপুল পরিমাণ গোপন নথি ও কূটনৈতিক বার্তা ফাঁস করার ১৮টি অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে কয়েক দশক কারাগারে কাটাতে হতে পারে।
একাত্তর/আরবিএস
