নতুন বছরের প্রথম দিনেই আবারও গৃহবন্দী হলেন জম্মু-কাশ্মীরের তিন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশের ভারী ট্রাক রেখে দেওয়া হয়েছে তাদের বাড়ির প্রবেশমুখে, শিকল লাগানো হয়েছে সদর দরজায়।
জানা গেছে, শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) বিধানসভা আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে বছরের প্রথম দিনে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় পাঁচদলীয় জোট গুপকর অ্যালায়েন্স। তাদের কর্মসূচি বানচাল করতেই এ ব্যবস্থা।
সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ জোটের এই কর্মসূচির কথা জানিয়ে বলেছিলেন, শান্তিপূর্ণভাবে তারা 'ডিলিমিটেশন কমিশন'র প্রস্তাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবেন।
গত ডিসেম্বরে কমিশন সুপারিশ করে, নতুন এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভার মোট আসন বাড়িয়ে করা হবে ৯০। এর মধ্যে জম্মু অঞ্চলে ৬ আসন বেড়ে এই অঞ্চলের মোট আসন হবে ৪৩ আর কাশ্মীর অঞ্চলে একটি আসন বেড়ে হবে ৪৭।
উল্লেখ্য, এই কমিশন জম্মু ও কাশ্মীর আলাদা হওয়ার পর বিধানসভার সীমানা পুনর্গঠনের কাজে হাত দেয়। কমিশনের প্রস্তাব কার্যকর হলে জম্মু ও কাশ্মীরের মধ্যে আসনসংখ্যার ব্যবধান ৯ থেকে কমে ৪-এ দাঁড়াবে।
উপত্যকার রাজনীতিকদের অভিযোগ, সরকার গঠনে হিন্দুপ্রধান জম্মুকে সুবিধা পাইয়ে দিতে বিজেপি এই ব্যবস্থায় এগোচ্ছে। তাই উপত্যকার সব রাজনৈতিক দল এই আসন বিন্যাস প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে।
শনিবার (১ জানুয়ারি) সকালে গৃহবন্দিত্ব থেকে টুইট করেন ওমর আবদুল্লাহ। নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে তিনি লেখেন, 'নতুন বছর শুরু হলেও কিছু জিনিস বদলায় না। জম্মু-কাশ্মীরে প্রশাসন বেআইনিভাবে মানুষজনকে গৃহবন্দী করে রাখছে। শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনকেও প্রশাসন ভয় পাচ্ছে। আমাদের বাড়ির ফটকের সামনে পুলিশ তাদের ট্রাক দাঁড় করিয়ে রেখেছে, যাতে জোটের নেতারা শান্তিপূর্ণ ধরনায় বসতে না পারেন।’
টুইটের সঙ্গে বাড়ির ফটকে ট্রাকের ছবিও জুড়ে দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে দেন আরও একটি ছবি যাতে দেখা যাচ্ছে, তার পিতার বাসভবনসংলগ্ন এক ফটকে চেইন লাগানো রয়েছে। ওই ফটক দিয়ে তার পিতা ফারুক আবদুল্লাহ মেয়ের (ওমর আবদুল্লাহর বোন) বাসভবনে যাতায়াত করেন।
টুইট করেছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতিও। এক টুইট বার্তায় তিনি লেখেন, ‘সরকার ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল ও রাজ্য দ্বিখণ্ডিকরণের ঢাক অহরহ পিটিয়ে চলেছে, অথচ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতার প্রশ্নে অসহিষ্ণু। অসংখ্যবার আমাদের গৃহবন্দী করা হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভও দেখাতে দিচ্ছে না।
এছাড়াও মেহবুবা বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের অভিনন্দন জানান, যারা দমন–পীড়ন অগ্রাহ্য করে শনিবার (১ জানুয়ারি) শ্রীনগরের বিভিন্ন স্থানে পুনর্বিন্যাস প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করেছেন।
এদিকে গুপকর জোটের বাইরের রাজনৈতিক দলগুলোও জোট নেতাদের গৃহবন্দী রাখার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। জোটত্যাগী দল পিপলস কনফারেন্স নেতা সাজ্জাদ লোন বলেছেন, 'নেতাদের বন্দী রাখার কোনো যুক্তিযুক্ত কারণই আমি দেখতে পাচ্ছি না। শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক বিক্ষোভকে এভাবে দমানো হলে সহিংস বিক্ষোভকেই উৎসাহিত করা হবে।'
জম্মু-কাশ্মীর প্রদেশের কংগ্রেস সভাপতি গুলাম আহমেদ মির বিষয়টিকে 'অগণতান্ত্রিক ও অনৈতিক' জানিয়ে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত দেশের গণতান্ত্রিক রীতির পরিপন্থী। সাবেক মুখ্যমন্ত্রীদের কেন গৃহবন্দী করা হয়েছে, এর কোনো ব্যাখ্যা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি।
একাত্তর/জো
