ভারতের কাশ্মীরে লাদাখের রাজ্য মর্যাদা ও ষষ্ঠ তফসিলের দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রধান মুখপাত্র, বিখ্যাত পরিবেশবাদী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে তদন্তের সময় তার সঙ্গে পাকিস্তানের যোগ থাকার কথা উঠে এসেছে। সোনমের ওয়াংচুকের পাকিস্তান সফরকে কেন্দ্র করে এমন প্রশ্ন উঠেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এমন কথা জানিয়েছে। গত বুধবার লাদাখে সহিংস সংঘর্ষে চার বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর পর সোনম ওয়াংচুককে শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয়।
লাদাখ পুলিশের মহাপরিচালক এসডি সিং জামওয়াল শনিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে সোনম ওয়াংচুকের পাকিস্তান সফর নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের দৈনিক পত্রিকা ডনের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক এবং সেই অনুষ্ঠানে নয়াদিল্লির সাথে লাদাখ রাজ্য গঠনের আলোচনাকে নষ্ট করার চেষ্টা করার অভিযোগ এনেছিলেন।

তিনি ওয়াংচুকের গ্রেপ্তারের সাথে যুক্ত একজন পাকিস্তান গুপ্তচরকে গ্রেপ্তার এবং সোনমের এই কর্মীর পাকিস্তানি জনগণের সাথে যোগাযোগের সূত্র সম্পর্কেও অবহিত করেন।
এনডিটিভির এক প্রশ্নের জবাবে জামওয়াল বলেন, আমরা সাম্প্রতিক অতীতে এক পাকিস্তানি গুপ্তচরতে গ্রেপ্তার করেছি; যিনি তার সাথে যোগাযোগ রেখেছিলেন, আমাদের কাছে এর রেকর্ড আছে। তিনি ( সোনম ওয়াংচুক) পাকিস্তানে ডনের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশও গিয়েছিলেন। তার উপর একটি বড় প্রশ্ন রয়েছে। আমরা এমন একজনকে খুঁজে পেয়েছি যে ওপারে জিনিসপত্র পাঠাচ্ছিল। আমরা সেই ব্যক্তিকে নজরদারিতে রেখেছি।

সোনমের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছে, যার আওতায় জামিনের সুযোগ ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে আটক রাখার বিধান রয়েছে। সূত্রের খবর, তাকে রাজস্থানের যোধপুরের একটি কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। লেহে কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে কারফিউ শিথিল করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে এই জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা ২৪ সেপ্টেম্বর লেহে সহিংসতা উস্কে দেয়ার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সোনাম ওয়াংচুকের মানুষকে উস্কে দেয়ার ইতিহাস রয়েছে। তিনি আরব বসন্ত, নেপাল এবং বাংলাদেশের কথা উল্লেখ করেছেন।
কেন্দ্রের সাথে আলোচনায় নাশকতা করার জন্য সোনমকে আরও অভিযুক্ত করে তিনি বলেন, এতে কিছু তথাকথিত পরিবেশবাদী জড়িত; তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তারা প্ল্যাটফর্মটি হাইজ্যাক করার চেষ্টা করেছিল, এবং এখানে প্রধান নাম সোনম ওয়াংচুক, যিনি এর আগেও এই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন এবং প্রক্রিয়াটিকে ব্যাহত করার জন্য কাজ করেছেন।
জামওয়াল আরো বলেন, সোনমের বিরুদ্ধে কথিত বিদেশি তহবিল হাপিশ করে দেয়ার তদন্তও চলছে। এফসিআরএ লঙ্ঘন একটি স্পষ্ট মামলা; এটি অন্য একটি সংস্থা দ্বারা তদন্ত করা হবে।
ট্রাম্পের নতুন শুল্কারোপের ঘোষণায় ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কপালে ভাঁজ
জাতিসংঘে ভারতকে নিশানা করলেন শেহবাজ, জবাব দিলো দিল্লিও