করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদরত ট্রাকচালকদের ১০ দিন ধরে চলা নজিরবিহীন অটোয়া অবরোধ মোকাবেলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন রাজধানী শহরটির মেয়র।
রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে মেয়র জিম ওয়াটসন বলেন, চলমান বিক্ষোভে নাগরিকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে এবং এই পরিস্থিতিতে অন্যান্য কর্তৃপক্ষ ও সরকারের পক্ষ থেকে সমর্থন জরুরী।
বিক্ষোভকারীরা সংখ্যায় পুলিশের চেয়ে বেশি হওয়ায় নগর 'পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণহীন' হয়ে পড়েছে বলে ওয়াটসন জানিয়েছেন।
এর আগে, বিক্ষোভকারীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ করেছিলেন অটোয়ার মেয়র। তবে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর কি ধরণের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন তিনি, তা বিস্তারিত জানাননি ।

উল্লেখ্য, কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলাচলকারী ট্রাকচালকদের জন্য করোনা টিকা বাধ্যতামূলক করার প্রতিবাদে 'ফ্রিডম কনভয়' নামের এই আন্দোলনের সূত্রপাত। কালক্রমে ট্রাকচালকদের এই আন্দোলন কানাডার জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সরকারের বিরুদ্ধে মোড় নেয় বলে জানায় রয়টার্স।
রাস্তায় গাড়ি রেখে ও তাঁবু গেড়ে অবস্থান নিয়ে অবরোধ চালাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। এতে অটোয়ার কেন্দ্রস্থল অচল হয়ে পরেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে।
অটোয়ার মেয়র ওয়াটসন কানাডার সিএফআরএ রেডিওকে বলেছেন, 'প্রতিবাদকারীরা ক্রমাগত হর্ন ও সাইরেন বাজিয়ে অংসবেদনশীল আচরণ করছে আর পটকা ফুটিয়ে প্রতিবাদকে একটি উৎসবে পরিণত করেছে।'
এদিকে, পরিস্থিতি সামলাতে সরকারি কোনো পদক্ষেপ না দেখে অটোয়ার বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ। নগরীর পুলিশ রোববার কিছু প্রতিবাদকারীকে অন্য স্থানে সরিয়ে নিয়েছে এবং নতুন ব্যারিকেড স্থাপন করেছে।

অবশ্য অটোয়া পুলিশ জানিয়েছে, তারা ফৌজদারি বিচারে ব্যবহার করার জন্য গাড়ির রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছে।
কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী মার্কো ম্যানডিচিনো রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছেন, সরকার এই ইস্যুতে পিছু হটবে না।
সিবিসি টেলিভিশনকে তিনি বলেন, 'টিকা বাধ্যতামূলক করার প্রশ্নটি নির্বাচনের ব্যালটে তুলেছিলাম আমরা আর যে প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছি, কানাডিয়ানদের বিশাল সমর্থন নিয়ে আমরা শুধু তাই পালন করছি।
আর এই 'ফ্রিডম কনভয়' আন্দোলনের সংগঠকরা জানিয়েছেন, টিকার এই বাধ্যবাধকতা তুলে না নেওয়া পর্যন্ত তারা অবরোধ তুলবেন না।
একাত্তর/জো
