রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, তুরস্কসহ প্রতিবেশীদের সঙ্গে নতুন একটি চুক্তির কথা বলেছে ইউক্রেনের ক্ষমতাসীন দল পিপলস সার্ভেন্ট পার্টি।
আর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির উপদেষ্টা বলেছেন, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পেলে কোনো জোটে না গিয়ে নিরপেক্ষ থাকার বিষয়টি ভেবে দেখবে কিয়েভ।
এরই মধ্যে মস্কো জানিয়েছে, দেশটির সরকার পরিবর্তনের ইচ্ছে নেই রাশিয়ার। ইচ্ছে একটাই, আর সেটি হলো ন্যাটো জোটে না যেতে ইউক্রেনের লিখত ওয়াদা।
যুদ্ধ বন্ধের জন্য রাশিয়ার অন্যতম প্রধান শর্তগুলোর একটি হলো ইউক্রেনকে সাংবিধানিকভাবে নিরপেক্ষ হতে হবে। অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ন্যাটোতে কিয়েভ যোগ দিতে পারবে না।
মস্কোর এ শর্তটি মানার ইঙ্গিত দিয়েছে কিয়েভ। এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের ক্ষমতাসীন পিপলস সার্ভেন্ট পার্টি নতুন একটি নিরাপত্তা চুক্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে ইউক্রেনের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সামরিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে। যাতে দেশ হিসাবে স্বাধীনভাবে বেড়ে উঠতে পারে ইউক্রেন।
কিয়েভের জন্য পরিপূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, তুরস্কসহ প্রতিবেশীদের সঙ্গে এই চুক্তি করতে চায় তারা।
এই বিবৃতিতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে কোনো জোটে না গিয়ে নিরপেক্ষ থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে ইউক্রেন। অনেকে মনে করছেন নিরপেক্ষ অবস্থানই হতে পারে মুক্তির উপায়।
মস্কোর দাবি অনুযায়ী, নিরপেক্ষতার বিষয়টি মেনে নিতে কিয়েভের ইঙ্গিতকে ঐতিহাসিক বলছে রাশিয়ার গণমাধ্যমগুলো।
তবে ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব ঘোষণা, লুহানস্ক ও দোনেৎস্ককে রাষ্ট্রের স্বীকৃতির রুশ দাবির বিষয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, নিজেদের ভূখণ্ডের দাবি কিয়েভ ছাড়বে না।
এদিকে, কিয়েভকে এই মুহূর্তে জোটে নিতে প্রস্তুত নয় ন্যাটো। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, ন্যাটোতে যাওয়ার আগ্রহ তিনি হারিয়ে ফেলেছেন।
তার মতে রাশিয়াকে মোকাবেলায় প্রস্তুত নয় এই জোট। জেলেনস্কির এক উপদেষ্টা বলেছেন, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পেলে নিরপেক্ষ থাকার বিষয়ে আলোচনা করবে কিয়েভ।
এরমধ্যেই, রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, কিয়েভের বর্তমান সরকারকে উৎখাত করা মস্কোর বিশেষ সামরিক অভিযানের লক্ষ্য নয়।
২৪শে ফেব্রুয়ারি কিয়েভের বিরুদ্ধে ডনবাসে গণহত্যার অভিযোগ তুলে ইউক্রেনকে নাৎসি, জাতীয়তাবাদীমুক্ত, অসামরিক এবং নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে দেশটিতে হামলা শুরু করে রাশিয়া।
